যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্যে ইরানের সাধারণ মানুষ ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সংকট, আয়হীনতা এবং দীর্ঘতম ইন্টারনেট বন্ধের মুখে টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, টানা চার সপ্তাহ ধরে চলা সংঘাতের প্রভাব পড়েছে দেশটির অর্থনীতিতে। অনেক মানুষ আয়ের উৎস হারিয়েছেন, কেউ কেউ সাময়িকভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, আর অধিকাংশ মানুষই জানেন না কবে ইন্টারনেট সংযোগ পুনরায় চালু হবে।
বর্তমানে নওরোজ (পারস্য নববর্ষ) উপলক্ষে দেশের বেশিরভাগ এলাকা বন্ধ থাকলেও, ব্যবসায়ীরা বলছেন গত বছরের তুলনায় বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, এ সময় সাধারণত সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়, কিন্তু এবার বিক্রি এক-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে।
দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্ব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি প্রায় ৭০ শতাংশে পৌঁছেছিল, আর খাদ্যদ্রব্যের দাম ১০০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এতে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সরকার ব্যয় কমানো এবং ন্যূনতম মজুরি ৬০ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও বাজারে পণ্যের দাম বাড়তেই থাকায় সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমেনি। দোকানিরা জানিয়েছেন, ক্রেতারা এখন প্রতিটি পণ্যের দাম যাচাই করে কিনছেন।
যুদ্ধ শুরুর পর অনেক পরিবার রাজধানী তেহরানসহ বড় শহর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে গেছে। তারা সঞ্চয় ভেঙে জীবন চালাচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছে।
এদিকে, ইন্টারনেট বন্ধ থাকার কারণে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। প্রায় ৯ কোটির বেশি মানুষ ২৫ দিন ধরে বৈশ্বিক ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন। এর ফলে তথ্যপ্রবাহ সীমিত হওয়ার পাশাপাশি অনলাইন ব্যবসাগুলো ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।
একজন নারী উদ্যোক্তা জানান, ইনস্টাগ্রাম ও টেলিগ্রামের মাধ্যমে পরিচালিত তার অনলাইন ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে কয়েক মাস ধরে স্থায়ী আয় নেই।
এছাড়া, সরকারবিরোধী অবস্থান নেওয়ায় অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং কিছু ব্যক্তির সম্পদ জব্দ করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, চলমান সংঘাত, অর্থনৈতিক চাপ এবং ইন্টারনেট বন্ধের কারণে ইরানের সাধারণ মানুষের জীবন আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।
সূত্র: Al Jazeera.
