‘আর্জেন্টিনার এই অর্জন ঐতিহাসিক’

X
ম্যাচ শেষে লিওনেল মেসিদের উল্লাস।
শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে শেষ চারে পৌঁছেছে আর্জেন্টিনা। নিজেদের ইতিহাসে কেবল দ্বিতীয়বারের মতো টানা দুবার সেমি-ফাইনালে খেলবে তারা। লিওনেল স্কালোনির কাছে দলের এই অর্জন ঐতিহাসিক। আসরের শেষ কোয়ার্টার-ফাইনালে ক্যানসাস সিটিতে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারায় আর্জেন্টিনা।
১৯৮৬ ও ১৯৯০ আসরেই কেবল টানা দুইবার সেমিফাইনালে খেলেছিল দিয়েগো মারাদোনার আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপে শেষ চারের লড়াইয়ে কখনও না হারা লাতিন আমেরিকার দেশটি এবার খেলবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। এবারের নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার ভোগান্তি যেন কমছেই না। তিন ম্যাচের মধ্েয দ্বিতীয়বার অতিরিক্ত সময়ে গেল ম্যাচ। শেষ পর্যন্ত থাকতে হলো উৎকণ্ঠায়।
দশম মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার পর ৬৭তম মিনিটে গোল হজম করে আর্জেন্টিনা। ৭২তম মিনিটে বাগাইল এমবোলোর দ্বিতীয় হলুদ কার্ডে ১০ জনের দলে পরিণত হয় সুইজারল্যান্ড। এরপরও তাদের রক্ষণ ভাঙতে পারছিলেন না লিওনেল মেসি, হুলিয়ান আলভারেস, লাউতারো মার্তিনেসরা। অবশেষে ১১২তম মিনিটে চমৎকার গোলে দলকে এগিয়ে নেন আলভারেস। যোগ করা সময়ে আরেকটি গোল করেন মার্তিনেস।
সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সামনে তাকাচ্ছেন স্কালোনি। কষ্টের জয়ে যে অর্জন হাতে ধরা দিয়েছে সেটাকে বড় করে দেখছেন আর্জেন্টিনা কোচ,‘ এই দল আজ যা অর্জন করেছে তা ঐতিহাসিক। যদিও আমরা হয়তো আরও ভালো খেলতে পারতাম, তবে আবার সেমিফাইনালে জায়গা করে নেওয়া ঐতিহাসিক ব্যাপার।’
১০ জনের সুইজারল্যান্ডের প্রবল প্রতিরোধ ভেঙে সেমি-ফাইনালে পৌঁছে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি স্বীকার করলেন, এদিন ভাগ্য তাদের পাশে ছিল। তিনি মনে করেন, বাগাইল এমবোলো লাল কার্ড দেখার পর খেলার চিত্র পাল্টে যায়। আসরের শেষ কোয়ার্টার-ফাইনালে ক্যানসাস সিটিতে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারায় আর্জেন্টিনা।
স্কোরলাইন যা বলছে, ম্যাচ মোটেও তেমন সহজ ছিল না। দশম মিনিটে পিছিয়ে পড়ার পর ৬৭তম মিনিটে সমতা ফেরায় সুইজারল্যান্ড। এর পাঁচ মিনিট পর দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এমবোলো। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পর পুরোপুরি রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে সুইজারল্যান্ড। সুযোগ পেয়ে একের পর এক আক্রমণ করে যায় আর্জেন্টিনা। তবুও নির্ধারিত সময়ে জিততে পারেনি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে নেন হুলিয়ান আলভারেস। পরে আরেকটি গোল করেন লাউতারো মার্তিনেস। ম্যাচ শেষের প্রতিক্রিয়ায় স্কালোনি বললেন,‘ কঠিন ম্যাচ হতে যাচ্ছে আগে থেকেই জানতেন তারা। সত্িয হচ্ছে, আজ আমরা ভুগেছি। আমরা জানতাম, তারা খুব শরীরিক শক্তি নির্ভর দল। আমি মনে করি, তারা আমাদের কাজ খুব কঠিন করে তুলেছিল। কিছু কিছু সময়ে আমরা পথ পাচ্ছিলাম না সত্িয হচ্ছে, আজ ভাগ্য আমাদের পাশে ছিল। কারণ, ওদের একজন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখল। এরপর (আমাদের) দল আক্রমণাত্মক খেলতে শুরু করল। আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে। আমাদের কিছু ব্যাপারে উন্নতি করতে হবে। তবে জয় সবসময়ই ভালো।’
শুরুতে গোল পাওয়া আর্জেন্টিনার যেখানে সুইজারল্যান্ডকে চেপে ধরার কথা ছিল, সেখানে ঘটল উল্টোটা। সুইসদের চাপে নাভিশ্বাস উঠে যাওয়ার দশা রোমেরো-মার্তিনেসদের। স্বস্তির জয়ে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন টিকে যাওয়ার পর, আর্জেন্টিনা কোচ ম্যাচ জুড়ে সামলানো ভোগান্তি নিয়ে বললেন- কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা তাদের ডিএনএতেই আছে।
ক্যানসাস সিটির লড়াইয়ে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারায় আর্জেন্টিনা। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের তিন গোলদাতা আলেক্সিস মাক আলিস্তের, জুলিয়ান আলভারেস ও লাউতারো মার্তিনেস। আলভারেস ও মার্তিনেস অতিরিক্ত সময়ে পান জালের দেখা।
কেবল সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষেই নয়, চলতি আসরে নকআউট পর্বে, কাঙ্ক্ষিত জয়ের বন্দরে পৌঁছাতে প্রতিকূলতার তীব্র স্রোত পাড়ি দিতে হচ্ছে আর্জেন্টিনাকে। শেষ বত্রিশে, কেইপ ভার্ডের বিপক্ষে তারা ৩-২ গোলে জিতেছিল বটে; তবে, ওই ম্যাচে দুইবার ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচ কঠিন করে তুলেছিল নবাগত দলটি। অতিরিক্ত সময়ের আত্মঘাতী গোলে হার মানে কেপ ভার্দে।
শেষ ষোলোয় মরক্কো ম্যাচ ছিল আরও কঠিন। ৭৯তম মিনিটে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো গোল করার আগ পর্যন্ত তো ছিল হারের প্রবল চোখ রাঙানি। ওই গোলের পরও আর্জেন্টিনা পিছিয়ে ছিল ২-১ ব্যবধানে। পরে, লিওনেল মেসি ও এনসো ফের্নান্দেসের লক্ষ্যভেদে জয়ের ঠিকানা খুঁজে পায় স্কালোনির দল।
সুইজারল্যান্ড ম্যাচে দ্রুত গোল পেলেও, ম্যাচের লাগাম মুঠোয় নিতে পারেনি আলবিসেলেস্তারা। বরং ৬৭তম মিনিটে ম্যাচে ফিরে সমতা। এর পাঁচ মিনিট পর বাগাইল এমবোলা দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পেলে, ১০ জনের দলে পরিণত হয় সুইজারল্যান্ড, কিন্তু মাটি কামড়ে লড়ে, ম্যাচ তারা টেনে নেয় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে নিষ্পত্তি করেন আলভারেস ও মার্তিনেস। আর্জেন্টিনা কোচ বললেন,‘ এমনটা যে হবে, তা জানতেন আগে থেকেই। আমরা জানতাম, আমাদের ভুগতে হবে এবং এটাই মেনে নেওয়া আমাদের রক্তে আছে। এই কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা আমাদের ডিএনএতে আছে। এই ক্ষমতাটুকু থাকা আমাদের মনে প্রশান্তি এনে দেয়। সুইজারল্যান্ড খুবই কঠিন প্রতিপক্ষ ছিল। দুজনের লড়াইয়ে জেতা, এবং একসাথে পাঁচ-ছয়টির বেশি পাস খেলা আমাদের জন্য খুবই কঠিন ছিল। তারা খুবই শক্তিশালী ছিল এবং এক বনাম এক-পরিস্থিতিতে, মাঠের বিভিন্ন জায়গায় তারা আমাদের ভুগিয়েছিল।’
আর এই ভোগান্তি যে, সামনের পথচলায়ও সঙ্গী থাকবে, তাও যেন মনে করিয়ে দিলেন স্কালোনি। আর্জেন্টিনা এবার শিরোপা জিতলে সাবলীল ফুটবলের চেয়ে অদম্য মানসিকতার দল হিসেবে স্মরণীয় থাকবে কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তরে কোচ তুলে ধরলেন, ফুটবলীয় বাস্তবতা,‘ যখন আপনি সেমি-ফাইনালে উঠবেন, কষ্ট সহ্য করেই উঠতে হয়। এর মধ্য দিয়েই যেতে হয় আপনাকে।’





