ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে একটি ‘স্থল অভিযানের’ প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।
তিনি বলেন, শুধু আকাশপথে হামলা চালিয়ে বড় কোনো পরিবর্তন বা ‘বিপ্লব’ আনা সম্ভব নয়। এ ধরনের লক্ষ্য অর্জনের জন্য স্থলবাহিনীর সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
যুদ্ধ তৃতীয় সপ্তাহে গড়ানোর প্রেক্ষাপটে নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার নতুন ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এক বিবৃতিতে তিনি জানান, চূড়ান্ত বিজয় ও কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে বিমান হামলা গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা একা যথেষ্ট নয়। প্রতিপক্ষের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে শক্তিশালী স্থল অভিযানের প্রয়োজন রয়েছে। তার মতে, ইরানের সামরিক অবকাঠামো ও রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন আনতে হলে স্থলবাহিনীর সরাসরি হস্তক্ষেপ জরুরি।
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর এই অবস্থান এমন এক সময়ে সামনে এল যখন মার্কিন প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় কোনো স্থল যুদ্ধে জড়ানোর বিষয়ে দ্বিধাগ্রস্ত।
ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই রণকৌশলগত মতপার্থক্য এখন ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। যেখানে যুক্তরাষ্ট্র মূলত বিমান হামলা এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে চাইছে, সেখানে নেতানিয়াহু সরাসরি স্থল যুদ্ধের পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইলি নেতৃত্বের এই কঠোর অবস্থান ওয়াশিংটনের সাথে তাদের কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন যুদ্ধের একটি ‘এক্সিট র্যাম্প’ বা সম্মানজনক প্রস্থান পথ খুঁজছেন, তখন নেতানিয়াহুর স্থল অভিযানের প্রস্তাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
সামগ্রিকভাবে, নেতানিয়াহুর এই নতুন যুদ্ধকৌশল মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একটি স্থল অভিযান শুরু হলে তা কেবল ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পুরো অঞ্চলকে এক দীর্ঘস্থায়ী ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের কবলে ফেলে দিতে পারে।
বর্তমানে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী এবং রাজনৈতিক নেতৃত্ব এই সম্ভাব্য স্থল অভিযানের রূপরেখা নিয়ে কাজ করছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
কুশল/সাএ
