ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় এক রাতে তিন কৃষকের সাতটি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৮ জুন) দিবাগত রাতে উপজেলার ঈশ্বরগঞ্জ ইউনিয়নের চরহোসেনপুর পূর্বপাড়া এবং মাইজবাগ ইউনিয়নের হারুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গরু চুরির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং খামারিদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে।
এ ঘটনায় চরহোসেনপুর পূর্বপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল মালেক (৪৭) গরুগুলো উদ্ধারের দাবিতে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত প্রায় ২টার দিকে গোয়ালঘরে থাকা গরুগুলো দেখে ঘুমাতে যান আব্দুল মালেক। ভোর ৫টার দিকে ঘুম থেকে উঠে গোয়ালঘরে গিয়ে দেখেন গরুগুলো নেই। পরে তার চিৎকারে তার ভাই আব্দুল খালেকও নিজের গোয়ালঘরে গিয়ে দেখেন সেখানে থাকা তারও তিনটি গরু চোরে নিয়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, চোরেরা গোয়ালঘরের তালা কেটে চরহোসেনপুর পূর্বপাড়া গ্রামের আব্দুল মালেকের তিনটি এবং তার ভাই আব্দুল খালেকের তিনটি গরু চুরি করে নিয়ে যায়। একই রাতে মাইজবাগ ইউনিয়নের হারুয়া গ্রামের কৃষক রিপন মিয়ার একটি গরুও চুরি হয়। রিপন মিয়ার চুরি যাওয়া গরুটির আনুমানিক মূল্য প্রায় এক লাখ টাকা।
গরু হারিয়ে আহাজারি করে আব্দুল খালেক বলেন, এই গরুগুলোই ছিল আমার শেষ সম্বল। দুইটি ষাঁড় ও একটি গাভী চুরি হয়ে গেছে। গরুগুলোর মূল্য প্রায় আড়াই লাখ টাকা। ভেবেছিলাম আরেকটু বড় হলে বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করব। বাকি টাকা দিয়ে নতুন করে গরু কিনে সংসার চালাবো। কিন্তু এখন আমি একদম নিঃস্ব হয়ে গেলাম।
অপর কৃষক আব্দুল মালেক জানান, তার একটি গাভী অন্তঃসত্ত্বা ছিল এবং কয়েক দিনের মধ্যেই বাচ্চা প্রসব করার কথা ছিল। এছাড়া গোয়ালে আরও দুটি বকনা গাভী ছিল। চুরি হওয়া তিনটি গরুর আনুমানিক মূল্য প্রায় তিন লাখ টাকা।
তিনি আরো বলেন, আমরা গরিব মানুষ। সারা বছর কষ্ট করে গাভীগুলো লালন পালন করেছি। আশা ছিল গাভীটি বাচ্চা দিলে দুধ বিক্রি করে সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চালাবো। আমার অন্য কোনো আয়ের উৎস নেই। গরুগুলোই ছিল আমাদের পরিবারের একমাত্র ভরসা। চোরচক্র শুধু গরুই নেয়নি, আমার পরিবারের স্বপ্ন আর সন্তানদের ভবিষ্যৎও কেড়ে নিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় গরু চুরির ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় খামারিদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই রাত জেগে পাহারা দেওয়ার কথা ভাবছেন।
এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম বলেন, গরু চুরির ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। চুরি যাওয়া গরুগুলো উদ্ধারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ শুরু করেছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
কুশল/সাএ