নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি নিতে ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। সা¤প্রতিক সময়ে তেল সরবরাহে বিঘœ ও চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকসহ সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে কৃষি মৌসুমে ডিজেল সংকট কৃষকদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে তুলেছে।
কালিয়া উপজেলার একমাত্র পেট্রোল পাম্প “মেসার্স কালিয়া ফিলিং স্টেশন”-এ সকাল থেকেই জ্বালানি নিতে ভিড় জমাচ্ছেন ক্রেতারা। বুধবার (২৫ মার্চ) সকাল থেকেই “মেসার্স কালিয়া ফিলিং স্টেশন” এ মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা যায়। তেল সংগ্রহ করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষক, সাধারণ চালক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও প্রয়োজনীয় জ্বালানি পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন অনেকেই। কৃষকদের দাবি, সেচ কাজ ও জমির অন্যান্য কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এই সংকটের কারণে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাম্পে মোটরসাইকেলের কাগজপত্র যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৈধ কাগজপত্র ও প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্টদের।
এদিকে প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে মোটরসাইকেল চালক উজ্জল মল্লিক বলেন,“ কাগজপত্র যাচাইয়ের ফলে বৈধ কাগজপত্র থাকা যানবাহনই তেল পাবে এবং সংকট কিছুটা কমবে।”
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শ্রাবণী বিশ্বাস “মেসার্স কালিয়া ফিলিং স্টেশন” পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বলেন, “সরবরাহকৃত তেলের পরিমাণ, মজুত ও বিতরণ পরিস্থিতি পর্যেবক্ষণ করা হচ্ছে। বৈধ লাইসেন্স ও হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেলে তেল না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষকদের তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। সঠিক বণ্টন নিশ্চিত করে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “অবৈধভাবে তেল মজুত বা অতিরিক্ত সংগ্রহ ঠেকাতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রকৃত ভোক্তাদের কাছে জ্বালানি পৌঁছে দিতে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে সক্রিয় রয়েছে এবং কেউ যেন কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।”
