দেশে আর কেউ নতুন করে ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার দুঃসাহস দেখাবে না—এমনটাই প্রত্যাশা দেশবাসীর বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল ১১টা ৫৫ মিনিটে দলটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।
দেশবাসীকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি লিখেছেন, এক মাসের পবিত্র সিয়াম সাধনার পর আনন্দের বার্তা নিয়ে ঈদুল ফিতর আমাদের দোরগোড়ায় এসেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এমন এক সময়ে জাতি ঈদ উদযাপন করছে, যখন দেশে ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশে জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে এবং নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। দীর্ঘদিনের অগণতান্ত্রিক ও জালিম শাসনের অবসান ঘটেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি লেখেন, দেশবাসীর প্রত্যাশা, কেউ আর নতুন করে ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার দুঃসাহস দেখাবে না। দেশের মানুষ ভয়ভীতিমুক্ত পরিবেশে চলাফেরা করতে পারবে, কথা বলতে পারবে। মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ ও বৈষম্য থাকবে না। নাগরিকেরা জানমাল ও ইজ্জত-আব্রুর নিরাপত্তা পাবে। দেশ ঘুস, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজিমুক্ত হবে। ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবাই মিলেমিশে সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারবে।
জুলাই সনদের বিষয়ে জামায়াত আমির লেখেন, জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ বাস্তবায়নে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো স্বাক্ষর করেছে। গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ নাগরিক ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে ম্যান্ডেট দিয়েছে। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের অনীহা লক্ষ করা যাচ্ছে। তারা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চান, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো টালবাহানা জনগণ মেনে নেবে না। তাই সরকারি ও বিরোধী দল ঐক্যবদ্ধভাবে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে জাতি ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশ পেয়েছে, মহান আল্লাহ তাদের শহীদ হিসেবে কবুল করুন। আর যারা পঙ্গুত্ববরণ করেছেন, আহত হয়েছেন, তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছেন। আহত ব্যক্তিদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন।
জামায়াতের আমির লেখেন, মানুষের মধ্যে আল্লাহভীতি তথা তাকওয়ার গুণাবলি সৃষ্টির মাধ্যমে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে আল্লাহর বিধান মেনে চলার দীর্ঘ প্রশিক্ষণের পর আগমন ঘটেছে পবিত্র ঈদুল ফিতরের। মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার পর পবিত্র ঈদুল ফিতর মুসলমানদের জীবনে শান্তি ও আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে। পবিত্র ঈদুল ফিতর ধনী-গরিব সব শ্রেণির মুসলমানদের মধ্যে নিবিড় ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে।
তিনি লেখেন, পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনে আমরা সব ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে মানুষে মানুষে দয়া, সৌভ্রাতৃত্ব, সাম্য, ঐক্য ও ভালোবাসার এক মহাসেতুবন্ধন গড়ে তুলি। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে একটি হিংসা ও বিদ্বেষমুক্ত সমাজ গঠনে তৎপর হই এবং সমাজের অবহেলিত, বঞ্চিত, নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসি। আমরা একে অপরের সুখ-আনন্দ ও দুঃখ-কষ্ট ভাগ করে নিই।
কুশল/সাএ
