Dhakainfo24
ঢাকামঙ্গলবার , ২৪ মার্চ ২০২৬
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. খেলাধুলা
  5. চাকরি
  6. জাতীয়
  7. তথ্য-প্রযুক্তি
  8. বিনোদন
  9. রাজনীতি
  10. শিক্ষা
  11. সর্বশেষ
  12. সারাদেশ
  13. স্বাস্থ্য

চোর-পুলিশ খেলায় পরিণত কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত

ঢাকা ইনফো২৪
মার্চ ২৪, ২০২৬ ১১:৩৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সাড়াশি অভিযানের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও দখলে যেতে বসেছিল কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতর বালিয়াড়ি। তবে নতুন করে গড়ে ওঠা সেই অবৈধ স্থাপনাগুলো টিকতে দেয়নি প্রশাসন। ফের অভিযানে নেমে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টের ঝাউবাগান ও মারমেইড এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে জেলা প্রশাসন।

অভিযানে বাধা দেওয়ার অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়। অভিযান চলাকালে যেসব স্থাপনার মালিককে পাওয়া যায়নি, সেগুলো ভেঙে ট্রাকে তুলে নেওয়া হয়। অনেক ব্যবসায়ী অবশ্য আগেভাগেই নিজ উদ্যোগে তাদের স্থাপনা সরিয়ে নেন। একপর্যায়ে মারমেইড এলাকার বালিয়াড়িতে কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের বাগবিতণ্ডা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখান থেকেই একজনকে আটক করা হয়।

এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনায় গত ১২ মার্চ সৈকতে অবৈধ ও অস্থায়ী স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে প্রশাসন। টানা পাঁচ দিনের ওই অভিযানে সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্ট থেকে ৬৩০টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছিল।

পরে গত রোববার এলাকা পরিদর্শনে এসে সালাহউদ্দিন আহমদ দখলমুক্ত বালিয়াড়ি পুনরায় দখল ঠেকাতে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও জেলা প্রশাসনকে কঠোরভাবে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেন। কিন্তু সেই নির্দেশনার একদিন পরই আবারও ঝাউবাগান ও মারমেইড এলাকার বালিয়াড়িতে স্থাপনা বসানোর চেষ্টা দেখা যায়। এর প্রেক্ষিতেই নতুন করে অভিযান চালানো হয়।

উচ্ছেদে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন। ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমরা এখন দিশেহারা অবস্থায় আছি। একদিকে বসতে দিলে অন্য জায়গা থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, আবার কোথাও স্থায়ীভাবে বসার সুযোগও দেওয়া হচ্ছে না। উচ্ছেদের সময় পুনর্বাসনের আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।

তিনি আরও বলেন, আমরা খেটে খাওয়া মানুষ। আজ ব্যবসা করতে না পারলে আগামীকাল পরিবারের খাবার জোগাড় করাই কঠিন হয়ে পড়বে।

সুগন্ধা বিচ মার্কেট সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল আলমও একই ধরনের অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় আমরা বাধ্য হয়ে সড়কের পাশে যানবাহন রাখছি। কিন্তু সেখান থেকেও উচ্ছেদ করা হচ্ছে। ঈদ মৌসুমে পর্যটকের চাপ বেশি, অথচ বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেই।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, পুনর্বাসনের আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি নেই। পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় আছি।

উচ্ছেদ অভিযানের বিষয়ে ক্যামেরার সামনে কথা না বললেও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনজু বিন আফনান শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, বালিয়াড়িতে নতুন করে কোনো স্থাপনা বসাতে দেওয়া হবে না।

এদিকে পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুধু উচ্ছেদ অভিযানই নয়, বালিয়াড়ি দখলমুক্ত রাখতে প্রয়োজন নিয়মিত নজরদারি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।

কক্সবাজার কলাতলী-মেরিন ড্রাইভ হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, প্রশাসন ও বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির পক্ষ থেকে এমন কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে কোনোভাবেই বালিয়াড়ি আবার দখলে না যায়। একই সঙ্গে সৈকতের সৌন্দর্যবর্ধনেও উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, পরিচ্ছন্ন ও আকর্ষণীয় সৈকত গড়ে তুলতে ব্যবসায়ী ও প্রশাসন- উভয় পক্ষের সমন্বিত ভূমিকা জরুরি।

উল্লেখ্য, গত ৯ মার্চ জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এক সপ্তাহের মধ্যে সমুদ্রসৈকতের সব অবৈধ স্থাপনা অপসারণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই ঘোষণার ধারাবাহিকতায় চলমান রয়েছে উচ্ছেদ অভিযান, যদিও পুনর্বাসন প্রশ্নে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি।

শাহীন মাহমুদ রাসেল কক্সবাজার-০১৮১৯৯৯১২৯৯



সালাউদ্দিন/সাএ

ঢাকা ইনফো২৪

ঢাকা ইনফো ২৪ একটি বহুমুখী তথ্য বাতায়ন যেখানে আপনি পাবেন ব্রেকিং নিউজ, লাইফস্টাইল গাইড এবং ক্যারিয়ার বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ সব আপডেট। আপনার প্রতিদিনের তথ্যের চাহিদা মেটাতে আমরা আছি আপনার পাশে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।