বৈশ্বিক অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি খাতে বাড়তি ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে সংস্থাটির সঙ্গে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে বিদ্যমান উন্নয়ন প্রকল্পের বাইরে গিয়ে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে সহযোগিতার নতুন কাঠামো তৈরির বিষয়েও কথা বলছে দুই পক্ষ।
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে সোমবার (১২ অক্টোবর) শুরু হওয়া আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভার ফাঁকে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি খাতে বাংলাদেশের অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। এই চাপ মোকাবিলায় আর্থিক সুরক্ষা প্রয়োজন। বিশ্বব্যাংক সহায়তার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে এবং দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে গেলে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি পায়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও বাড়তি ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের ওপর মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কমাতে সরকার জ্বালানির দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে পুরোপুরি সমন্বয় করেনি। ফলে একদিকে ভোক্তাদের ওপর তাৎক্ষণিক চাপ সীমিত রাখার চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে বাড়তি ব্যয় সামলাতে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা জোরদার করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সহযোগিতা শুধু চলমান প্রকল্পের অর্থায়নে সীমিত রাখতে চায় না বাংলাদেশ। পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে অর্থনীতির ওপর চাপ কমানো এবং উন্নয়ন কার্যক্রম সচল রাখার জন্য আরও কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা চলছে। দুই পক্ষের মধ্যে একটি কাঠামোগত চুক্তি নিয়েও প্রক্রিয়াগত কাজ এগোচ্ছে।
বিশ্বব্যাংক এর আগে বাংলাদেশের ব্যাংক খাত শক্তিশালী করতে ৪৫০ মিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন অনুমোদন করেছে। এ কর্মসূচির লক্ষ্য আমানতকারীদের সুরক্ষা, বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দুর্বল ব্যাংক পুনর্গঠনের ভিত্তি তৈরি করা। তবে ব্যাংক খাতের জন্য অনুমোদিত ওই অর্থায়ন এবং জ্বালানি ব্যয় সামলাতে বর্তমানে আলোচনাধীন সম্ভাব্য সহায়তা এক বিষয় নয়।
বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত থেকে সৃষ্ট জ্বালানি ও মূল্যবৃদ্ধির চাপ সামলাতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তারা আলোচনা করছে। সংস্থাটির হিসাবে, প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি দেশ সম্ভাব্য সংকটকালীন সহায়তা নিয়ে আলোচনায় রয়েছে।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জলবায়ু সহনশীলতা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নে অর্থায়নের বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর চাপ কমাতে সৌরবিদ্যুৎসহ বিকল্প উৎসের ব্যবহার বাড়ানো, বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
বিশ্বব্যাংকের ৬ অক্টোবর প্রকাশিত বাংলাদেশ অর্থনৈতিক হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানি খাতের দুর্বলতা, আর্থিক খাতের ঝুঁকি এবং রাজস্ব আদায়ের সীমাবদ্ধতা বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত করছে। সংস্থাটি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। জ্বালানি সরবরাহের উন্নতি ও সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত হলে পরবর্তী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি বাড়ার সম্ভাবনাও তুলে ধরা হয়েছে।
Scale Your Newsportal
Blazing-fast frontend, robust backend & ad monetization ready.
Scale Your Newsportal
Blazing-fast frontend, robust backend & ad monetization ready.