Dhakainfo24
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১২ মার্চ ২০২৬
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. খেলাধুলা
  5. চাকরি
  6. জাতীয়
  7. তথ্য-প্রযুক্তি
  8. বিনোদন
  9. রাজনীতি
  10. শিক্ষা
  11. সর্বশেষ
  12. সারাদেশ
  13. স্বাস্থ্য
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি সংকট: পাম্পে নেই তেল, সেচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

ঢাকা ইনফো২৪
মার্চ ১২, ২০২৬ ৬:১৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে।

এর প্রভাব ধীরে ধীরে বিভিন্ন দেশের বাজারে পড়তে শুরু করেছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই, তবে বাস্তবে এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়।
কৃষি নির্ভর জেলা ঠাকুরগাঁওয়েও দেখা দিয়েছে জ্বালানি তেলের সংকট। জেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে ডিজেল পেট্রোল ও অকটেন না থাকায় বিপাকে পড়েছেন মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও ট্রাকসহ বিভিন্ন পরিবহন চালকরা। একই সঙ্গে ফসলের সেচ নিয়ে উদ্বেগে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

ঠাকুরগাঁও পেট্রোল পাম্প ওনার্স এসোসিয়েশন সূত্রে জানা যায়, ঠাকুরগাঁও জেলায় বর্তমানে ৩৭টি পেট্রোল ও ডিজেল ফিলিং স্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২৪টি, বালিয়াডাঙ্গীতে ২টি, হরিপুরে ২টি, রাণীশংকৈলে ৫টি এবং পীরগঞ্জ উপজেলায় রয়েছে ৪টি ফিলিং স্টেশন। এসব ফিলিং স্টেশনে প্রতিদিন পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের সম্মিলিত চাহিদা প্রায় আড়াই থেকে তিন লাখ লিটার।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় জেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি সংকটে দেখা দিয়েছে। অনেক পাম্পে তেল না থাকায় বন্ধ করে রাখতে হয়েছে কার্যক্রম।
অন্যদিকে, কিছু স্থানে খোলা বাজারে বেশি দামে পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে এ বিষয়ে ক্যামেরার সামনে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি বিক্রেতারা।
জ্বালানি সংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন যানবাহন চালকরা। মোটরসাইকেল চালক ইমরান মেহেদী বলেন, “পাম্পে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকলেও তেল পাওয়া যাচ্ছে না। এতে কাজকর্মে দারুণ সমস্যা হচ্ছে।”
ট্রাক চালক মোহাম্মদ আলী বলেন, “ডিজেল না পেলে গাড়ি চালানো সম্ভব নয়। এতে আমাদের আয়-রোজগারও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।”
কিছু ক্রেতার অভিযোগ, জ্বালানির দাম বাড়ানোর উদ্দেশ্যে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দা ফজলুল হক বলেন, “সরকার বলছে দেশে জ্বালানির সংকট নেই, কিন্তু পাম্পে গেলে তেল পায়া যাচ্ছে না। কিছু পাম্প টাকা বেশি নিলেও ওজনে কম দিচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলেও প্রশাসনের কোনো ভ‚মিকা পালন করতে দেখা যাচ্ছেনা।”
জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে কৃষিক্ষেত্রেও। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ঠাকুরগাঁও জেলার মোট আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৫১ হাজার ৬৯৩ হেক্টর। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৪৬ হাজার হেক্টর জমিতে সেচের ব্যবস্থা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮৬ হাজার হেক্টর জমিতে বিদ্যুৎচালিত সেচ এবং প্রায় ৬০ হাজার হেক্টর জমিতে ডিজেলচালিত সেচ যন্ত্র ব্যবহার করা হয়।
চলতি মৌসুমে জেলায় বোরো ধানের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬২ হাজার ৩শ’ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৫ হাজার ৯৪০ হেক্টর জমিতে আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। তবে ডিজেল সংকটের কারণে অনেক কৃষক সময়মতো সেচ দিতে না পারার আশঙ্কা করছেন।

স্থানীয় কৃষক জুলফিকার শহরের একটি পাম্পে এসেছিলেন ডিজেল নিতে। ডিজেল না পেয়ে তিনি বলেন, “ডিজেল নিতে এসে পেলাম না। এখন বোরা ধানের চারা কিভাবে লাগাবো। তেল না পাওয়ায় জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব না। এতে ফসল ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।”
আরেক কৃষক দীপক চন্দ্র বলেন, “চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। এতে কৃষকরা দুশ্চিন্তায় আছেন।”
তবে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, জেলায় ডিজেলের কোনো ঘাটতি নেই। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মোছাম্মাৎ শামীমা নাজনীন জানান, রোববার পর্যন্ত জেলায় প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার ৮০ লিটার ডিজেল মজুদ রয়েছে।
অন্যদিকে ফিলিং স্টেশনের মালিক ও ম্যানেজারদের দাবি, ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ না পাওয়ায় এ সংকট তৈরি হয়েছে। স্থানীয় একটি ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মনঞ্জুর হাসান বেলাল বলেন, “ডিপো থেকে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না।
রুপশী ফিলিং স্টেশনের মালিক রাম বাবু বলেন, যেখানে আগে পেট্রোল ও অকটেন মিলে ৯ হাজার লিটার তেল দিত সেখানে এখন অকটেন তো নাই। রোববার রাতে পেট্রোল ৩ হাজার লিটার দেওয়ার কথা আছে। তিনি আরও বলেন, যদিও আমরা সরকারি নিয়ম মতাবেক তেল দিচ্ছি তাও অনেকেই বোতল ও জারকিনে করে তেল মজুদ করছেন, যার কারণে সংকট আরও বেড়েছে।”
ঠাকুরগাঁও পেট্রোল পাম্প ওনার্স এসোসিয়েশন এর সভাপতি মোস্তাক জানান, জেলার ৩৭টি পেট্রোল ও ডিজেল ফিলিং স্টেশনের মধ্যে শুধু শহরের ৪টি স্টেশনে রাতে তেল এসেছে। বাকি স্টেশন গুলো শূণ্য হয়ে পড়ে আছে।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম বলেন, “কেউ যদি অসাধু উপায়ে জ্বালানির কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে দ্রæত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিবহন খাতের পাশাপাশি কৃষিক্ষেত্রেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা ইনফো২৪

ঢাকা ইনফো ২৪ একটি বহুমুখী তথ্য বাতায়ন যেখানে আপনি পাবেন ব্রেকিং নিউজ, লাইফস্টাইল গাইড এবং ক্যারিয়ার বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ সব আপডেট। আপনার প্রতিদিনের তথ্যের চাহিদা মেটাতে আমরা আছি আপনার পাশে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।