ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার গোয়ালনগর গ্রামে রহিম গোষ্ঠী ও কাসেম গোষ্ঠীর মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরবর্তী সহিংসতা এড়াতে গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের আহতরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
গোয়ালনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজহারুল হক চৌধুরী ও পুলিশ জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন সকালে গোয়ালনগর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগে বিএনপির সমর্থক গোয়ালনগর গ্রামের রহিম তালুকদার গোষ্ঠীর জিয়াউর রহমানকে আটক করে সেনাবাহিনী। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এ নিয়ে জিয়াউর রহমান একই গ্রামের কাসেম মিয়ার গোষ্ঠীর শিশু মিয়াকে সন্দেহ করতে থাকে এবং প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠে। গেল এক সপ্তাহ আগে জিয়াউর গোয়ালনগর গ্রামে শিশু মিয়াকে তার মোটরসাইকেলসহ আটক করে মারধর করে এবং মোটরসাইকেলটি ছিনিয়ে নেয়। এ নিয়ে রহিম গোষ্ঠী ও কাসেম গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা চলে আসছিল। মঙ্গলবার সকালে রহিম তালুকদার কাসেম গোষ্ঠীর বাড়ি ঘরে হামলা চালানোর চেষ্টা করে।
এ নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বিকেলে উভয় গোষ্ঠীর বিপুল সংখ্যক লোকজন টেঁটা, বল্লম, দাসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়ে যায়। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হন।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহিনুর ইসলাম বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তী সহিংসতা এড়াতে এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ঘটনাটির তদন্ত চলছে। অভিযোগ সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সালাউদ্দিন/সাএ
