Dhakainfo24
ঢাকারবিবার , ১৫ জুন ২০২৫
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. খেলাধুলা
  5. চাকরি
  6. জাতীয়
  7. তথ্য-প্রযুক্তি
  8. বিনোদন
  9. রাজনীতি
  10. শিক্ষা
  11. সর্বশেষ
  12. সারাদেশ
  13. স্বাস্থ্য
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পরিবেশ ও প্রকৃতি রক্ষার আহ্বান জানিয়ে উদীচীর বর্ষা উৎসব

শাহ রিয়ার রিজবি
জুন ১৫, ২০২৫ ৬:৫৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

দেখ, পান্থকুঞ্জ জেগে আছে, হত্যা হলে একটি বৃক্ষ লড়াই হবে তোমার সাথে’–এই স্লোগানে উদযাপিত হলো বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর বর্ষা উৎসব। আজ রোববার সকালে রাজধানীর বাংলা একাডেমির নজরুল মঞ্চে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

সকালে উদীচীর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবিবুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় বর্ষা কথন পর্ব। এ পর্বে মূল কথক ছিলেন বাংলাদেশ গাছরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক আমিরুল রাজিব। বক্তব্য রাখেন উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন, সহ সাধারণ সম্পাদক ইকবালুল হক খান, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আরিফ নূর, কেন্দ্রীয় সদস্য তাহিমনা আক্তার নীলা। বর্ষাকথন উপস্থাপন করেন, উদীচীর সহ সাধারণ সম্পাদক কবি রহমান মুফিজ।

প্রাণ-প্রকৃতি ধ্বংস করে প্রকল্প বা স্থাপনা গড়ে তোলা বন্ধ, অপরিকল্পিত নগরায়ণ বন্ধ, ঢাকার প্রাণকেন্দ্র পান্থকুঞ্জ পার্ক রক্ষার্থে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ বাতিল, প্রাণ-প্রকৃতি-বিধ্বংসী ভারতীয় প্রকল্পসহ অন্যান্য সব প্রকল্প বাতিলের দাবিসহ আরও কিছু দাবি উত্থাপিত হয় বর্ষা কথনে।

রোববার সংগঠনটির সহ সাধারণ সম্পাদক ইকবালুল হক খান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বর্ষা উৎসবের কথনপর্বে বলেন, আমাদের রাষ্ট্রে যে উন্নয়নদর্শন বিদ্যমান আছে তা মানুষ ও পরিবেশের ধার ধারে না। মানুষের অগ্রগতি ও প্রাণ-প্রকৃতির অধিকার—এ দুয়ের সমন্বয় না ঘটাতে পারলে কোনো উন্নয়নই উন্নয়ন বলে গণ্য হবে না। কিন্তু বাংলাদেশে গত কয়েক দশকে যে উন্নয়ন ধারণা বিকশিত হয়েছে সে ধারণা চরম অমানবিক ও প্রকৃতিবিরোধী। এ উন্নয়ন ধারণার মধ্যে গাছের অধিকার, পাখির অধিকার, বন্যপ্রাণীসহ অন্যান্য প্রাণের অধিকারের স্বীকৃতি নেই। আছে উন্নয়নের নামে অবাধ প্রকৃতি-বিনাশী তত্ত্ব ও প্রকল্প।

নেতৃবৃন্দ বলেন, মুক্তি ও স্বাধীনতার যে ধারণা তা কেবল মানুষের জন্যই নির্ধারিত নয়। প্রাণ-প্রকৃতির মুক্তি ও স্বাধীনতা ছাড়া মানুষের মুক্তি ও স্বাধীনতা অর্থহীন। এ দেশের মানুষ ইতিহাসের নানা পর্বে মুক্তি ও স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়েও ছাত্র-জনতা ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত করেছে। হাসিনা শুধু মানুষের অধিকার খর্ব করেনি। তারা উন্নয়নের নামে প্রাণ-প্রকৃতির অধিকারও নস্যাৎ করেছিল। হাসিনার পতনের পর মানুষ আশা করেছিল, মানুষ ও প্রকৃতি তার অধিকার ফিরে পাবে। কিন্তু তার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। উপরন্তু ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলে হওয়া পরিবেশবিধ্বংসী কথিত উন্নয়ন প্রকল্পগুলো এখনো বলবৎ রাখা হয়েছে। হাসিনার আমলের লুটপাটমুখী ও প্রকৃতিবিনাশী ব্যবস্থাকে জারি রাখার ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের মনোযোগ বেশি বলে মনে হচ্ছে।

বর্ষাবরণ উৎসবে উদীচীর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জামশেদ আনোয়ার তপন বলেন, ‘বর্ষা উৎসব করার প্রধান একটি উদ্দেশ্য হলো, আমাদের দেশে পরিবেশ ও প্রকৃতির ওপর যে আগ্রাসী নিপীড়ন চালানো হচ্ছে, উন্নয়নের নামে বন ও পরিবেশ ধ্বংস করা হচ্ছে তার বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ করা।’ 

তপন আরও বলেন, ‘যারা ক্ষমতায় থাকে তাদের কাছে উন্নয়নের দর্শনটা অন্যরকম। তারা উন্নয়ন বলতে বোঝে ইট, পাথর, বড় বড় অট্টালিকা। ঢাকা শহরে যে পরিমাণ উদ্যান থাকা দরকার তার ১০ ভাগও নেই। আমরা এ অনুষ্ঠান থেকে পরিবেশের বিপক্ষে যেসব নিপীড়ন তার বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ জানাই।’

এবারের বর্ষা উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় সকাল সাড়ে ৭টায়। মেঘমল্লার রাগের ওপর হৃদিক জাহান এবং সুস্মিতা কীর্তনীয়ার বর্ষাবন্দনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় আয়োজন। এরপর উদীচী কেন্দ্রীয় সঙ্গীত বিভাগের দলীয় সংগীত, আদৃতা আনোয়ার প্রকৃতির নৃত্য, কেন্দ্রীয় আবৃত্তি বিভাগের আলেখ্য ‘বর্ষা মঙ্গল’, শিল্পী মহাদেব ঘোষ, প্রিয়াঙ্কা গোপ, তুহিন কান্তি দাস, চম্পাবতী এন মারাক, জাকির হোসেন, মিথিলা ঘোষ, মায়েশা সুলতানা উর্বি ও মীর সাখাওয়াতের একক গান, সাভার উদীচী, মাভৈঃ গানের দল, উদীচী উত্তরার দলীয় পরিবেশনা, স্পন্দন নৃত্যদলের নৃত্য, কারুপীঠের আবৃত্তি এবং শিখা স্বাধীন কর্মকারের একক শ্রুতি নাটিকা পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, উদীচীর আবৃত্তি বিভাগের সদস্য মৌমিতা জান্নাত, তানভীর সজীব ও জান্নাতুল ফেরদৌস অনি।

শাহ রিয়ার রিজবি

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।