ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা রক্ষায় ইরান সবসময়ই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এ লক্ষ্য অর্জনে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা জোরদারে তেহরান কাজ করে যাচ্ছে।
সোমবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপে তিনি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কথিত আগ্রাসনের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন।
পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান যুদ্ধ শুরু করেনি; বরং কোনো যুক্তি, আইনগত ভিত্তি বা কারণ ছাড়াই শত্রুপক্ষ পারমাণবিক আলোচনা চলাকালে ইরানের ওপর সামরিক হামলা চালায়। এ সময় ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী খামেনি, উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা, নিরীহ নাগরিক ও শিক্ষার্থীদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা ইরানের বৈধ ও স্বাভাবিক অধিকার।
ইরানের প্রেসিডেন্ট পাকিস্তানের সঙ্গে ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্কের প্রশংসা করে বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর সহযোগিতার মাধ্যমেই স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব। তিনি মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা তাদের ভূখণ্ড ও স্থাপনা ইরানের বিরুদ্ধে হামলার জন্য ব্যবহার করতে না দেয়।
তিনি সতর্ক করে বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলো যদি যুদ্ধ বন্ধ করতে না পারে, তাহলে অন্তত যেন এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি না করে যা ইরানের বিরুদ্ধে চলমান আগ্রাসনকে উৎসাহিত করে। এতে পুরো অঞ্চলে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।
হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা প্রসঙ্গে পেজেশকিয়ান বলেন, এ অঞ্চলের নিরাপত্তাহীনতা মূলত সামরিক আগ্রাসনের ফল। তবে ইরান নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে এবং যারা আগ্রাসনের সঙ্গে জড়িত নয়, তাদের জাহাজ চলাচলে সহযোগিতা করবে।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ঈদুল ফিতর ও নওরোজ উপলক্ষে ইরানকে শুভেচ্ছা জানান এবং ইরানের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি ইরানি জনগণ ও সরকারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে পাকিস্তানি জাহাজ চলাচলে সহযোগিতার জন্য ইরানকে ধন্যবাদ জানান।
শাহবাজ শরিফ আঞ্চলিক দেশগুলো, বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বকে একযোগে কাজ করে উত্তেজনা কমানো ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। তিনি ইরানের আত্মরক্ষার অধিকারকে সমর্থন করে বলেন, পাকিস্তান সবসময় ইরানের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
সূত্র- তাসনিম নিউজ।
