পাবনায় সালিশে ২০ জুতার আঘাত, ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১২ জনের নামে মামলা!

পাবনায় সালিশে ২০ জুতার আঘাত, ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১২ জনের নামে মামলা!

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার গৌরিগ্রাম ইউপির হাঁড়িয়াকাহন গ্রামে স্থানীয় একটি সালিশ বৈঠকে এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে ২০টি জুতার আঘাত করার অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যান, সদস্য ও সালিশকারীদেরসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

‎শনিবার (১৮ জুলাই) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমান। 

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৩ জুলাই) ভুক্তভোগী মো. মহব্বৎ আলী খাঁর স্ত্রী মোছা. রোজিনা খাতুন সাঁথিয়া থানায় এজাহার দাখিল করেন। পরে পুলিশ দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩২৬, ৫০৬, ১১৪, ৩৪ এবং ৬৪১/৬৪৭ ধারায় মামলাটি রুজু করে।

‎এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রতিবেশী মো. এরশাদ আলীর প্রতিবন্ধী বোনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে গত ১২ জুলাই সন্ধ্যায় গ্রামে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে বিপুলসংখ্যক স্থানীয় লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

‎মামলার বাদীর অভিযোগ, সালিশে তার স্বামী মহব্বৎ আলী খাঁকে প্রকাশ্যে ২০টি জুতার আঘাত করার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। তিনি উপস্থিত সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলেও সালিশকারীরা সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেননি। একপর্যায়ে সালিশস্থল ত্যাগ করতে চাইলে তাকে বাধা দেওয়া হয় এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়।

‎অভিযোগে আরও বলা হয়, সালিশকারীদের নির্দেশে দুই ব্যক্তি মহব্বৎ আলী খাঁকে প্রকাশ্যে ২০টি জুতার আঘাত করেন। পরে তিনি বাড়ি ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেন। পরবর্তীতে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

‎মামলায় গৌরিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব মাষ্টার, সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল মালেক, বর্তমান ইউপি সদস্য আরশেদ আলী ও সালিশকারীদেরসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

‎এদিকে একই ঘটনায় ওই প্রতিবন্ধী কিশোরীর ভাই মো. এরশাদ আলী বাদী হয়ে ধর্ষন চেষ্টাকারী অভিযুক্ত মহব্বৎ আলী খাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে পৃথক একটি মামলা দায়ের করেছেন।

‎এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত ১২ জুলাই দুপুর ১২টার দিকে অভিযুক্ত মহব্বত খাঁ কাঠাল কাটার অজুহাতে ভুক্তভোগীর বাড়ি থেকে একটি কাচি নিয়ে যান। পরে বাড়িতে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরী একা থাকার সুযোগে তিনি ঘরে প্রবেশ করে তাকে জাপটে ধরে মাটিতে ফেলে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এরপর এলাকায় চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে শালিশের মাধ্যমে ২০ টি জুতা পেটা করা হয়।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে গৌরিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব মাষ্টার সহ কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

‎ওসি আনিছুর রহমান বলেন, “অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঢাকা ইনফো ২৪ একটি বহুমুখী তথ্য বাতায়ন যেখানে আপনি পাবেন ব্রেকিং নিউজ, লাইফস্টাইল গাইড এবং ক্যারিয়ার বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ সব আপডেট। আপনার প্রতিদিনের তথ্যের চাহিদা মেটাতে আমরা আছি আপনার পাশে।