দুর্গাপূজা আসছে। উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য টানা পাঁচ দিনের ছুটির সুযোগ তৈরি হচ্ছে। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানো, বাড়ি যাওয়া, ঘুরতে যাওয়া কিংবা উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন অনেকে।
কিন্তু এই আনন্দের হিসাবের বাইরে রয়ে গেছেন একটি পেশার মানুষ—সাংবাদিকরা। ছুটির দিন এলেই সাংবাদিকদের ছুটি বাড়ে না, বরং অনেক সময় দায়িত্ব বাড়ে। পূজামণ্ডপে মানুষের ঢল, নিরাপত্তা পরিস্থিতি, যানজট, প্রশাসনের প্রস্তুতি, ধর্মীয় সম্প্রীতির চিত্র, উৎসবের আনন্দ—সবকিছুর খবর মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সাংবাদিকদের ছুটতে হয় এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে।
অন্যরা যখন উৎসব উপভোগ করেন, তখন সাংবাদিকরা সেই উৎসবের খবর সংগ্রহ করেন। অন্যরা যখন ঘরে ফেরেন, তখন অনেক সাংবাদিকের কর্মস্থলে থাকার পালা শুরু হয়।
তাদেরও পরিবার আছে। সন্তান আছে। বাবা-মা আছেন। উৎসব আছে, আবেগ আছে, ক্লান্ত শরীর নিয়ে একটু বিশ্রামের প্রয়োজন আছে। দায়িত্বের কারণে যদি উৎসবের দিনগুলোতে কাজ করতেই হয়, তাহলে সেই শ্রমের স্বীকৃতি কোথায়? বিকল্প ছুটি, রোস্টারভিত্তিক দায়িত্ব কিংবা অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার যথাযথ মূল্যায়ন—এসব কি নিশ্চিত করা যায় না?
সবচেয়ে বড় কথা, যারা অন্যের উৎসবের গল্প মানুষের ঘরে পৌঁছে দেন, তাদের নিজেদের উৎসবের গল্পটিও মনে রাখা দরকার।
সবার ছুটির খবর আমরা প্রকাশ করি। কিন্তু সাংবাদিকদের ছুটির খবর কে রাখে?
লেখক : এম জহিরুল ইসলাম, সাংবাদিক