নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়ন ও হাদি হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলনকারীদের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার দিকে (প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন) অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা ছত্রভঙ্গ করতে গিয়ে পুলিশের অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী ঢাকাটাইমসকে এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১০টা ও বিকালে পৃথকভাবে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে এবং নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলনকারীরা যমুনা অভিমুখে মিছিল নিয়ে এগোতে চাইলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
ডিএমপি কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী জানান, সংঘর্ষে ডিএমপির বিভিন্ন ইউনিটের অন্তত ১৬ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন একজন অতিরিক্ত ডিআইজি, একজন পরিদর্শক, একজন সার্জেন্ট ও একাধিক কনস্টেবল। তাদের বেশির ভাগেরই হাত, পা ও মাথায় আঘাত লেগেছে। কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, একজনের মাথায় সেলাই দিতে হয়েছে।
ডিএমপির পাঠানো তালিকা অনুযায়ী, আহত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে সিটিটিসি, পিওএম (পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর ও দক্ষিণ), শাহবাগ থানাসহ বিভিন্ন ইউনিটের সদস্য রয়েছেন। এ ছাড়া রমনা বিভাগের ডিসি মাসুদ আলমকে হাতে ব্যান্ডেজ অবস্থায় দেখা গেছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, যমুনা ঘেরাওয়ের চেষ্টা হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ পুলিশের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় আহত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসা ও সার্বিক সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।
এর আগে গুজব ছড়িয়ে পড়ে ইনকিলাব মঞ্চের জাবেরসহ বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। পরে অবশ্য ডিএমপির বিবৃতিতে দিয়ে বিষয়টি পরিস্কার করে বলা হয় যে, অবৈধ জমায়েত ছাত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কোনো গুলি ছোঁড়েনি।
বিবৃতিতে জানানো হয়, যমুনা ও আশপাশের এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও শুক্রবার বিভিন্ন দাবি নিয়ে একাধিক গোষ্ঠী পুলিশের বাধা অতিক্রম করে যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পুরো ঘটনায় কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র বা গুলি ব্যবহার করা হয়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
