সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার গুপিরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও অশালীন আচরণের অভিযোগ করেছিলেন পাঁচ সহকারী শিক্ষিকা। তাদের মধ্যে শামীমা জাহান নামে এক শিক্ষিকাকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে গিয়ে সহকারী শিক্ষিকা শামীমা জাহানকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সাহাব উদ্দিন।
এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষিকাদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অভিযোগকারী শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এ নিয়ে শিক্ষক সমাজের মধ্যেও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, গুপিরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. খুরশিদ জিন্নাহর বিরুদ্ধে নির্যাতন ও অশালীন আচরণের অভিযোগ তুলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন বিদ্যালয়ের পাঁচ সহকারী শিক্ষিকা। পরে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। অভিযোগকারী শিক্ষিকারাও গণমাধ্যমে তাদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
এরই মধ্যে সোমবার বিদ্যালয়ে সরেজমিন পরিদর্শনে যান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সাহাব উদ্দিন। অভিযোগকারী শিক্ষিকাদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি তাদের বকাঝকা করেন এবং পরে সহকারী শিক্ষিকা শামীমা জাহানকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
শামীমা জাহান বলেন, ‘ডিপিইও স্যার এসেছিলেন। তিনি সব শিক্ষিকাকে দাঁড় করিয়ে অনেক কথা বলেছেন। আমি সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী। এর বেশি কিছু বলতে চাই না।’
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক মো. খুরশিদ জিন্নাহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সাহাব উদ্দিনের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত। এ কারণেই অভিযোগ ওঠার পরও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তারা মনে করছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সাহাব উদ্দিন একজন শিক্ষিকাকে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কী অপরাধে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আদেশটা দেখেন।’
বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের পক্ষ নিয়ে সহকারী শিক্ষিকাদের বকাঝকা করা এবং পরে একজনকে বরখাস্তের নির্দেশ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘আপনি কি এমন প্রশ্ন করতে পারেন? কাগজের মধ্যে লেখা আছে, ওইটা দেখেন।’
অভিযোগকারী শিক্ষিকার বিরুদ্ধে কী অভিযোগের ভিত্তিতে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়েছে, এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের বক্তব্যে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
ঘটনাটি নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত ও অভিযোগকারী শিক্ষিকার বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কারণ স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।