ফ্রান্সে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। সোমবার দেশটির প্রায় ১৮০টি লিসে অবরোধ অথবা অবরোধের চেষ্টার মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ। আন্দোলনের শুরুটা মূলত ইল-দ্য-ফ্রঁস অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকলেও সোমবার তা ফ্রান্সের অন্যান্য এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলন ঘিরে এখন পর্যন্ত ১৬৪ জনকে আটক করা হয়েছে। নুনেজের দেওয়া হিসাবে, সংঘর্ষ ও বিক্ষোভে প্রায় এক ডজন শিক্ষার্থী, আটজন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মী এবং ১২ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য আহত হয়েছেন। ইল-দ্য-ফ্রঁস অঞ্চলের কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, প্রায় ১৫টি লিসেতে সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।
আন্দোলনের পেছনে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষক ও অন্যান্য কর্মীর ঘাটতি, অতিরিক্ত শিক্ষার্থী নিয়ে শ্রেণিকক্ষ পরিচালনা, জরাজীর্ণ স্কুল ভবন এবং শিক্ষা-সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার প্রতিবাদ। বিভিন্ন বিদ্যালয়ে দাবির ধরন এক নয়; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমেও আন্দোলন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে বলে শিক্ষা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
তবে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের পাশাপাশি কয়েকটি স্থানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, ভাঙচুর, আতশবাজি ও বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ পরিস্থিতিকে “শহুরে সহিংসতা” হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, এটি প্রচলিত ধরনের প্রতিবাদ নয়। অন্যদিকে শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার গেফ্রে শিক্ষার্থীদের কিছু দাবিকে বৈধ হিসেবে স্বীকার করলেও সহিংসতার নিন্দা করেছেন।
এদিকে আন্দোলন আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ইউনিয়ন সিন্ডিকাল লিসেয়েন মঙ্গলবার সারা দেশের লিসেগুলোতে অবরোধের ডাক দিয়েছে। ফলে আগামী দিনগুলোতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয় কি না এবং সরকার পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবিলা করে, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে।