প্রায়ই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যায়—”আগের প্রজন্ম ভালো ছিল”, “স্যারদের হাতে আবার বেত তুলে দিন”, “মক্তবের সেই কঠোর শাসন ফিরিয়ে আনুন”—এমন নানা মন্তব্য।
কিন্তু একটু গভীরভাবে ভাবুন। যে প্রজন্ম কঠোর শাসন, বেতের আঘাত ও ধর্মীয় শিক্ষার পরিবেশে বড় হয়েছে, সেই প্রজন্মের একটি অংশই কি রাষ্ট্রের সর্বস্তরে দুর্নীতি, ঘুষ, অনিয়ম, মিথ্যাচার, সুদ, ভেজাল, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অর্থপাচারের সংস্কৃতি গড়ে তোলেনি? দেশের সম্পদ লুটপাট, খেলার মাঠ দখল, তরুণদের সুস্থ বিকাশের সুযোগ সংকুচিত করা—এসবের দায়ও তো মূলত পূর্ববর্তী প্রজন্মের নেতৃত্বের ওপরই বর্তায়।
অবশ্যই এর অর্থ এই নয় যে পুরো আগের প্রজন্ম দায়ী। অসংখ্য সৎ, দেশপ্রেমিক ও আদর্শবান মানুষও সেই প্রজন্মে ছিলেন এবং আছেন। কিন্তু যারা রাষ্ট্র ও সমাজ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তাদের ব্যর্থতার প্রভাব আজকের তরুণদের ওপর পড়েছে।
আজকের অনেক তরুণ একটি ন্যায়ভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত ও সম্ভাবনাময় সমাজ দেখতে পায় না। তাই তাদের মধ্যে হতাশা, ক্ষোভ ও আগ্রাসী আচরণ বেড়ে যায়। সমস্যার মূল কারণ কেবল তাদের আচরণ নয়; বরং তারা যে পরিবেশে বেড়ে উঠছে, সেটিও।
এখনও সময় আছে। তরুণদের দোষারোপ না করে তাদের মেধা, সততা, দক্ষতা ও নেতৃত্বের সুযোগ তৈরি করতে হবে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যোগ্য, সৎ ও মেধাবী তরুণদের স্থান দিতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থায় মুখস্থবিদ্যার পরিবর্তে নৈতিকতা, সমালোচনামূলক চিন্তা, মানবিকতা ও জবাবদিহির চর্চা বাড়াতে হবে।
প্রজন্মকে দোষ দিয়ে নয়—সুস্থ সমাজ, সুশাসন ও সঠিক নেতৃত্ব গড়েই একটি উন্নত বাংলাদেশ তৈরি করা সম্ভব।
মোহাম্মদ নাজিমুদ্দিন (প্রিন্সিপাল : ফিউচার ম্যাপ স্কুল)