ফরিদপুরের ভাঙ্গায় এক কৃষক দল নেতাকে থানার ভেতরে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক উপ-পরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে। আহত ওই নেতার নাম ফারদিন হাসান উজ্জ্বল, যিনি ভাঙ্গা উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। এই ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন উপজেলা কৃষকদল ও স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ।
মানববন্ধনে বক্তারা জানান, গত রাতে ভাঙ্গা উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফারদিন হাসান উজ্জ্বলের প্রতিবেশী আপন মাতুব্বরকে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তাকে দেখতে ও খোঁজ নিতে থানায় গেলে ভাঙ্গা থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. কবির মোল্লা উজ্জ্বলকে মারধর করেন। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসহ এসআই মো. কবির মোল্লার শাস্তি ও প্রত্যাহারের দাবি জানান তারা।
কর্মসূচিতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভাঙ্গা পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি উকিল মাতুব্বর, উপজেলা ছাত্র দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইমরান মুন্সী, উপজেলা কৃষক দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. সুমন মোল্লাসহ বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
ভুক্তভোগী ফারদিন হাসান উজ্জ্বল বলেন, “আমি আমার প্রতিবেশীকে খাবার ও ওষুধ দেওয়ার জন্য থানার ভেতরে গিয়েছিলাম। তখন এসআই মো. কবির মোল্লা আমাকে জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনি কে?’ আমি বলি, যাকে ধরে এনেছেন সে আমার ভাই হয়। এ কথা শোনার পরপরই তিনি আমাকে মারধর করেন।”
ভাঙ্গা উপজেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুল হাসান বলেন, “গতকাল রাতে আমাদের সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফারদিন হাসান উজ্জ্বলের প্রতিবেশীকে পুলিশ আটক করলে তিনি খোঁজ নিতে যান। সেখানে এসআই কবির মোল্লা তাকে মারধর করেছেন বলে জানতে পেরেছি। বর্তমানে উজ্জ্বল ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষী পুলিশ কর্মকর্তার প্রত্যাহারসহ শাস্তি দাবি করছি।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ভাঙ্গা থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. কবির মোল্লাকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “গতকাল একটি ঘটনায় ফারদিন হাসান উজ্জ্বল থানায় এলে তার সাথে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল, তবে কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি।”
সালাউদ্দিন/সাএ