ঢাকা: আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে মাধ্যমিক স্তরের ভর্তি কার্যক্রমে বড় পরিবর্তন আনছে সরকার। লটারিভিত্তিক ভর্তি পদ্ধতি বাতিল করে নতুন ব্যবস্থায় ক্যাচমেন্ট এরিয়া ও পরীক্ষার সমন্বয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। তবে এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে। তবে, তা কেন্দ্রীয়ভাবে একক কোনো ব্যবস্থায় নয়, ক্যাচমেন্ট এরিয়া বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। ফলে সব জায়গায় একই ধরনের পরীক্ষা পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে না।’
তিনি আরও জানান, আগে যেভাবে স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হতো, নতুন ব্যবস্থাতেও সেভাবেই ক্যাচমেন্ট এরিয়া ও পরীক্ষার সমন্বয় করা হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা সেভাবে যাচ্ছি না। আগে যেমন ভর্তি পরীক্ষা ছিল, তেমনই ক্যাচমেন্ট এরিয়া ও পরীক্ষার সমন্বয়ে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।’
ভর্তি পরীক্ষার ধরন ও কাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। এ বিষয়ে কাজ চলছে এবং সময়মতো পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা জানানো হবে।’
এসএসসি পরীক্ষার ফল ২০ জুলাই
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী জানান, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল আগামী ২০ জুলাই প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে শিক্ষা খাতে সেশনজট কমাতে পাঠ্যসূচি শেষ হওয়ার পরপরই পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘চলতি বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। প্রশ্নফাঁস বা কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই পরীক্ষা আয়োজন সম্ভব হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতার ফল।’
শিক্ষামন্ত্রী জানান, সরকারের ঘোষিত ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় শিক্ষা খাতে সংস্কার, মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করছে মন্ত্রণালয়।
তিনি বলেন, ‘দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের স্থগিত থাকা বৃত্তি পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন করা হয়েছে। বেসরকারি ও কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোর অংশগ্রহণ নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতারও সমাধান হয়েছে।’
ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুবিধার জন্য এক বছর আগেই এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে।’
এ ছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এক লাখ ২০ হাজার শিক্ষককে আইসিটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। শিক্ষা খাতকে আরও আনন্দময় ও মানবিক করতে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী।