ব্রিটিশ কিংবদন্তি চিত্রশিল্পী ডেভিড হকনি ১১ জুন ২০২৬ তারিখে নিজ বাসভবনে প্রয়াত হয়েছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর; মাত্র এক মাস পরই তিনি ৮৯তম জন্মদিন পালন করার ছিলেন। এই তথ্য প্রকাশ করেছে দ্য গার্ডিয়ান।
১৯৩৭ সালে ব্র্যাডফোর্ড, ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া হকনি ২০ ও ২১শ শতকের অন্যতম প্রভাবশালী সমকালীন শিল্পী হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত ছিলেন। ১৯৬০-এর দশকে পপ আর্ট আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়ার সুইমিং পুল, উজ্জ্বল রোদ ও আধুনিক জীবনযাত্রাকে কেন্দ্র করে আঁকা তার চিত্রকর্মগুলো আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। তাঁর বিখ্যাত কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘আ বিগার স্প্ল্যাশ’ এবং ‘পোর্ট্রেট অফ অ্যান আর্টিস্ট (পুল উইথ টু ফিগারস)’।
ছয় দশকের বেশি কর্মজীবনে হকনি কেবল প্রথাগত চিত্রকলায় সীমাবদ্ধ থাকেননি। ফটোকোলাজ, ডিজিটাল আর্ট, আইপ্যাডে আঁকা ছবি এবং থ্রিডি প্রযুক্তি ব্যবহার করে তিনি শিল্পে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন। নতুন মাধ্যম ও প্রযুক্তিতে তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা তাকে সমকালীন শিল্পের অন্যতম প্রধান উদ্ভাবক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
হকনির মৃত্যুতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার শোক প্রকাশ করেছেন এবং বলেন,
“হকনির উজ্জ্বল ও সহজেই চেনা যায় এমন অনন্য শিল্পকর্ম বহু প্রজন্মের শিল্পীকে অনুপ্রাণিত করেছে।”
লন্ডনের টেট ব্রিটেনের পরিচালক অ্যালেক্স ফারকুহারসন বলেন,
“ডেভিড হকনি আমাদের দেখিয়েছেন কীভাবে চারপাশের পৃথিবীকে সম্পূর্ণ নতুন চোখে দেখা যায়।”
২০১৮ সালে হকনির ১৯৭২ সালের মাস্টারপিস ‘পোর্ট্রেট অফ অ্যান আর্টিস্ট (পুল উইথ টু ফিগারস)’ নিউইয়র্কে ৯০.৩ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়। এটি জীবিত শিল্পীর শিল্পকর্ম বিক্রিতে সেই সময়ের বিশ্বরেকর্ড।
ডেভিড হকনি কেবল একজন চিত্রশিল্পী ছিলেন না, বরং আধুনিক শিল্পের ভাষা ও দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেওয়া এক যুগান্তকারী স্রষ্টা। তার কালজয়ী শিল্পকর্ম আগামী প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।