শুক্রবার ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় মার্কিন বাহিনীকে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাজ্য। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলায় ব্যবহৃত ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলো ধ্বংসের লক্ষ্যেই এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
ডাউনিং স্ট্রিটের এক বিবৃতিতে বলা হয়, আঞ্চলিক যৌথ আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছে, তাতে হরমুজ প্রণালিতে হামলায় ব্যবহৃত মিসাইল স্থাপনা ও সক্ষমতা ধ্বংসে মার্কিন প্রতিরক্ষামূলক অভিযানও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিবৃতিতে একই সঙ্গে উত্তেজনা কমানো এবং দ্রুত যুদ্ধের সমাধানের আহ্বান জানানো হয়।
এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক্সে দেওয়া এক পোস্টে অভিযোগ করেন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে নিজ দেশের নাগরিকদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলছেন। তিনি আরও বলেন, ইরান আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করবে।
এর আগে, সপ্তাহের শুরুতে স্টারমার বলেছিলেন, ব্রিটেন ইরান-সংক্রান্ত যুদ্ধে জড়াবে না। প্রাথমিকভাবে ইরানে হামলার জন্য ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের মার্কিন অনুরোধও তিনি নাকচ করেছিলেন। তখন তিনি উল্লেখ করেছিলেন, যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ আইনসম্মত কি না, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
কিন্তু ইরান মধ্যপ্রাচ্যে ব্রিটিশ মিত্রদের উপর হামলা চালানোর পর স্টারমার অবস্থান পরিবর্তন করেন। তিনি আরএএফ ফেয়ারফোর্ড এবং ভারত মহাসাগরে মার্কিন-ব্রিটিশ যৌথ ঘাঁটি ডিয়েগো গার্সিয়া ব্যবহারের অনুমতি দেন।
ট্রাম্প সংঘাত শুরু থেকেই স্টারমারকে বারবার আক্রমণ করছিলেন। সোমবার তিনি বলেছিলেন, কিছু দেশ তাকে ভীষণভাবে হতাশ করেছে। এরপর ব্রিটেনের কথা বিশেষভাবে বলেন এবং বলেন, ব্রিটেনকে একসময় রোলস-রয়েসের মিত্র মনে করা হতো।
ব্রিটেনের জনমত জরিপে যুদ্ধ নিয়ে ব্যাপক সংশয় দেখা যাচ্ছে। ইউগভের জরিপে ৫৯ শতাংশ মানুষ মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার বিরোধিতা করেছেন।
কুশল/সাএ
