খুলনা: নগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রূপসা ট্রাফিক মোড় থেকে খানজাহান আলী (রূপসা) সেতু পর্যন্ত শিপইয়ার্ড সড়কের প্রশস্তকরণ কাজ ১৪ বছরেও শেষ হয়নি। তিন দফায় প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি করা হলেও কাজ শেষ না হওয়ায় প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাজারো যাত্রী, শিক্ষার্থী ও পরিবহনচালককে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রায় ৩ দশমিক ৭৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা দেখা দেয়, ফলে যান চলাচল ব্যাহত হয়। বিশেষ করে রূপসা সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। সড়কের দুই পাশে রয়েছে অন্তত ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অসংখ্য চালকল ও কাঠের গোলা। ফলে প্রতিদিন হাজারো মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা এই সড়কটি।

খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ) সূত্রে জানা যায়, শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পটি ২০১২ সালে গ্রহণ করা হয়। ২০১৩ সালের ৩০ জুলাই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৯৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৪ সালের ৩০ জুন।
তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় পরবর্তী সময়ে একাধিকবার প্রকল্প সংশোধন করা হয়। প্রথম সংশোধনীতে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ১২৬ কোটি ৫৮ লাখ টাকা এবং মেয়াদ বাড়ানো হয় ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত। পরে তৃতীয় সংশোধনীতে প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে ২৫৯ কোটি টাকায় উন্নীত হয়। সর্বশেষ ২০২৪ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটি ২৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে পুনরায় অনুমোদন পায় এবং মেয়াদ বাড়ানো হয়। কিন্তু এত সময় ও অর্থ ব্যয়ের পরও কাজ এখনও অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আরাফাত সানী বলেন, ‘বর্তমানে সড়কটির অবস্থা ভয়াবহ। খানাখন্দে ভরা এই সড়কে ছোট যানবাহন চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন দুর্ঘটনা ঘটছে। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই।’
ইজিবাইকচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘রূপসা ট্রাফিক মোড় থেকে খানজাহান আলী (রূপসা) সেতু পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার সড়কের খুব খারাপ অবস্থা। অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটে। যাত্রীরাও চরম ভোগান্তির শিকার হয়। আমাদের গাড়ির বেশ ক্ষতি হচ্ছে।’
এ বিষয়ে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ) চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন (পিএসসি) বলেন, ‘সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে রূপসা ট্রাফিক মোড় থেকে খানজাহান আলী (রূপসা) সেতু পর্যন্ত সড়কটির প্রশস্তকরণ কাজ কাজ শেষ করা হবে।’