ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সোমবার জানান, কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরও পরোক্ষ আলোচনা হয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে যাওয়ার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল আঞ্চলিক উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে ইরানের অবস্থান তুলে ধরা।
আরাগচি বলেন, সংকটের সমাধান এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে ইরান একটি ‘ন্যায্য ও যৌক্তিক’ পরিকল্পনা দিয়েছে। তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের আগে যুক্তরাষ্ট্রকে কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে। এসব শর্ত যুক্তরাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সাম্প্রতিক আলোচনায় কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা দুই দেশের মতপার্থক্য কমানোর বিষয়ে কিছু নতুন প্রস্তাব দিয়েছেন। একই সঙ্গে ইরানের দেওয়া পরিকল্পনা কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত বার্তা আদান-প্রদান হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ইরানের প্রস্তাবে সাত দিনের একটি সময়সীমার কথা বলা হয়েছে। এতে নির্দিষ্ট কিছু মার্কিন পদক্ষেপের পর হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিক নৌ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার এবং এরপর আলোচনায় ফেরার কথা রয়েছে। প্রস্তাবের সঙ্গে ইরানের হিমায়িত সম্পদ ছাড়, তেল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার মতো বিষয়ও যুক্ত রয়েছে।
ইরানের প্রস্তাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানও স্পষ্ট করেছে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ। তাঁর দাবি, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার আগে ইরান নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় এবং জব্দ করা সম্পদে প্রবেশাধিকারের মতো সুবিধা চেয়েছে। তবে আরাগচি ওয়াল্টজের বক্তব্যের বিরোধিতা করে বলেছেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূত ইরানের প্রস্তাবটি দেখেননি।
এদিকে আরাগচি জানিয়েছেন, ইরান কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যেতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে তা মোকাবিলার প্রস্তুতিও রয়েছে তেহরানের। তাঁর ভাষ্য, কূটনীতির পথ খোলা রয়েছে এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে দুই দেশের অবস্থান বর্তমান সংকটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ পুনরায় চালুর বিষয়ে মধ্যস্থতাকারীদের তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও হরমুজ, নিষেধাজ্ঞা, ইরানের সম্পদ এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য এখনো রয়েছে।