ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরানও। এতে যুদ্ধ তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে নড়ে উঠেছে ফুটবল বিশ্বও। আগামী জুন–জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র–মেক্সিকো–কানাডায় অনুষ্ঠিত ফুটবল বিশ্বকাপ। যেখানে খেলার কথা ইরানেরও।
অন্যদিকে, চলতি মাসে কাতারে ফিনালিসিমায় মুখোমুখি হওয়ার কথা ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন স্পেন–আর্জেন্টিনার। তবে যুদ্ধের কারণে এমন বৈরি পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপে ইরানের খেলা ও সূচি অনুযায়ী ফিনালিসিমা হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এ দিকে ‘পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে’ বলে জানিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) কার্ডিফে ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের (আইএফএবি) বার্ষিক সভা শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন ফিফা মহাসচিব ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রম। চলমান পরিস্থিতিতে ফিফার মতামত জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ইরান সম্পর্কে আপনাদের মতো আমিও খবরটি পড়েছি। এখন বিস্তারিত মন্তব্য করার সময় নয়। তবে ফিফা বিশ্বজুড়ে সব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।’
তবে নির্ধারিত সময়েই সবকটি দল নিয়ে বিশ্বকাপ মাঠে গড়াবে বলে আশাবাদী ফিফা মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘ওয়াশিংটনে হওয়া ড্র অনুষ্ঠানে সব দলই অংশ নিয়েছিল। আমাদের মূল লক্ষ্য নিরাপদ একটি বিশ্বকাপ আয়োজন, যেখানে সব দল অংশ নেবে। আমরা আগের মতোই তিন আয়োজক দেশের সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখবো। সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।’

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এমন অবস্থা ইরান পরবর্তীতে কী পদক্ষেপ নেবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
এ দিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর পাল্টা জবাব হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে মিসাইল ছুড়েছে ইরান। সেই তালিকায় রয়েছে কাতারও। তাই ২৭ মার্চ আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার ফিনালিসিমা মাঠে গড়ানো নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘এএস’ জানিয়েছে, স্পেন ও আর্জেন্টিনার ফুটবল ফেডারেশন কয়েক দিন আগে সই করা চুক্তিটি পুনর্বিবেচনা শুরু করেছে। এ ধরনের চুক্তিতে সহায়তাকারী বিমা কোম্পানিগুলোর পরামর্শের অপেক্ষায়ও রয়েছে তারা। এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সময় হয়নি মনে করলেও বিকল্প পথ খুঁজছে দুই পক্ষ। কাতারের সঙ্গে ম্যাচ আয়োজনের চুক্তিটি আর্থিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও নিরাপত্তাই থাকবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
