মাহে রমজানের শুরুতেই চড়া রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজার। সরবরাহে ঘাটতি না থাকলেও পেঁয়াজ কাঁচামরিচ, লেবু, টমেটো, শসা ও ধনেপাতা, ছোলা, মসুর ডালের মতো ইফতারসামগ্রীর দামও বেড়েছে। এরমধ্যে বেগুন ও শসার দাম হাঁকিয়েছে সেঞ্চুরি। লেবুর হালি ঠেকেছে ১২০ টাকায়।
তবে মাছ, মুরগি গরু ও খাসির বাজার উচ্চমূল্যে স্থিতিশীল। এছাড়া প্রতিহালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা দরে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও উত্তাপ ছড়াচ্ছে সবজির দাম। বিশেষ করে লেবু,শসা আর বেগুনের দামে ক্ষুব্ধ ক্রেতারা।
মান ও আকারভেদে এক হালি লেবু এখন বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১২০ টাকায়, গত সপ্তাহে যা ছিল ৬০ থেকে ১০০ টাকা। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ১৮০ থেকে ২৪০ টাকায়, আগে যা ছিল ১৪০ থেকে ১৮০ টাকা। টমেটো বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৫০ থেকে ৮০ টাকায়, গত সপ্তাহে যা ছিল ৩০ থেকে ৬০ টাকা। গাঁজর বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা, যা গতসপ্তাহে ছিল ৫০ টাকা।
বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজিতে, এক সপ্তাহ আগে যা ছিল ৬০ থেকে ৮০ টাকা। শসা ও ধনেপাতার দামও কেজি প্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।এছাড়া মান ও প্রকার ভেদে মিষ্টিকুমড়া প্রতিকেজি ৩০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা, ঝিঙ্গা ৮০ টাকা, শিম ৬০ থেকে ৮০ টাকা, চিচিন্দা ৮০ টাকা, আলু ২৫ টাকা, লাউ প্রতিপিস ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ফুল কপি ৫০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০ টাকা এবং প্রতি আটি শাক ১৫ থেকে ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
সবজি বিক্রেতা মো. শরিফ হোসেন বলেন, গত কয়েক দিন ধরেই সবজির দাম বেড়েছে। আজকে থেকে শসা, লেবু, গাজর, টমেটো ধনেপাতা, কাঁচা মরিচের দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে।
লেবু বিক্রেতা আবদুল কাদের বলেন, লেবুর চাহিদা রমজানে অনেক বেড়ে যায়। পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই খুচরা বাজারেও দাম একটু বেশি।
মালিবাগ কাঁচা বাজারে সবজি কিনতে আসা মো. শরিফ শেখ বলেন, রমজান আসলেই নিত্যপণ্যের দাম বাড়াটা এখন রীতি হয়েছে গেছে। এক হালি লেবু কিনতেই ১২০ টাকা গুনতে হচ্ছে। বেগুন আর শসার দামও ১০০ টাকার ওপরে। অন্য জিনিসের কথা নেই বললাম। আমরা মধ্যবিত্ত মানুষ নিদিষ্ট আয় দিয়ে চলতে হয়। হঠাৎ কোনো কিছুর দাম বেড়ে গেলে চলতে কষ্ট হয়, ঋণ করতে হয়। নতুন সরকারের কাছে একটাই চাওয়া নিত্যপণ্যের বাজার যেন সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকে।
আরেক ক্রেতা আবুল মিয়া ঢাকা প্রতিদিন কে বলেন, সরবরাহ ঠিক আছে, বাজারে পণ্যও আছে। তারপরও কেনো দাম এত বেশি। এর কোনো উত্তর পাই না। রমজান এলেই যেন কিছু পণ্যের দাম বাড়ানো যেন নিয়ম হয়ে গেছে।
এদিকে রাজধানীর অন্যতম পাইকারি বাজার কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রকারভেদে লেবু হালি প্রতি ২০ থেকে ৩০ বেড়ে পাইকারি ৬০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর শসা ও বেগুন প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা দরে। এছাড়া মরিচ ৮০-১২০, টমেটো ৩০-৫০, ধনেপাতা ৭০ ও গাজর ৩০ টাকা কেজি ধরে বিক্রি হচ্ছে পাইকারিতে।
মুদিপণ্যের মধ্যে বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা, যা আগে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা বিক্রি হয়েছে এক দিন আগেও। মসুর ডাল ১৮০ টাকা কেজি যা এক দিন আগেও বিক্রি হয়েছে ১৬০ টাকা কেজি। ছোলা বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা কেজি কয়েক দিন আগেও বিক্রি হয়েছিলো ৯০ টাকন কেজি। ডিম প্রতি হালি ৪০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া আদা ১৬০ টাকা থেকে ১৮০ টাকা, রসুন ১৭০ থেকে ২০০ টাকা কেজি। বেসন প্রতি কেজি ১১০ থেকে ১৪০ টাকা, মুগ ডাল ১৬০ টাকা কেজি, মটর ডাল ১২০ টাকা, চিনি ১০০ টাকা ও সয়াবিন তেল ১৯৫ টাকা লিটার বিক্রি হতে দেখা গেছে।
কারওয়ান বাজারের মহিন জেনারেল স্টোরের মো. ফরিদ বলেন, পেঁয়াজ, মসুর ডাল ও ছোলার দাম বেড়েছে। কেন বেড়েছে সেটাতো বলতে পারবো না। আমরা বেশি দামে কিনছি বেশি দামে বিক্রি করছি।
ডিম বিক্রেতা মো. আতিক বলেন, ডিমের দাম নির্বাচনের আগেই বেড়েছে। নতুন করে আর কি বাড়বে। প্রতি হালি মুরগির ডিম ৪০ টাকা, হাঁসের ডিম ৮০ টাকা, দেশি মুরগির ডিম ১০০ টাকায় বিক্রি করছি।
বাজারে উচ্চমূল্যে স্থিতিশীল রয়েছে সব ধরেন মাংসের দাম। গত এক সপ্তাহ ধরেই ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা, সোনালি ৩৪০ টাকা আর লেয়ার ৩৪০ টাকা কেজিতে। মুরগি বিক্রেতা নুর ইসলাম বলেন, দাম কয়েকদিন ধরে একই আছে। কমার কোনো খবর নেই, আবার বাড়েওনি।
কারওয়ান বাজারের মাংস ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জালাল জানান, খাসির মাংস এখন কেজি প্রতি ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, এক সপ্তাহ আগে যা ছিল ১ হাজার ২৫০ টাকা। উচ্চ চাহিদার কারণেই দাম বেড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
গরুর মাংসের দামও কেজি প্রতি ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। মাংস বিক্রেতা মো. রানা বলেন, প্রতিকেজি গরুর মাংস বিক্রি করছি ৮০০ টাকা কেজি। চাহিদা বেশি থাকায় দুই সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিটি গরুর দাম ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে, ফলে গরুর মাংসের দামও বেড়েছে।
এদিকে অপরিবর্তিত রয়েছে মাছের বাজার। বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ টাকা, রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, মৃগেল ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা, দেশি টেংরা ৭৫০ টাকা, বাইন ৬০০ টাকা, শিং ৪০০ থেকে ১০০০ টাকা, পোয়া ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা, শোল ৭০০ টাকা এবং টাকি ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে চিংড়ির দাম তুলনামূলক বেশি। আকার ও জাতভেদে প্রতি কেজিতে খরচ করতে হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা, আইড় ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, মলা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। তবে ইলিশের দাম আকাশচুম্বি ছোট ইলিশ প্রতি কেজি ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা, মাঝারি ইলিশ ২ হাজার থেকে ২৫০০ টাকা এবং বড় ইলিশ ২৫০০ থেকে ৩৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
