বাংলাদেশের ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং একই সঙ্গে কিছু নির্দিষ্ট ও উপযুক্ত স্থানে ক্ষুদ্র হকার ব্যবসাকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনার জন্য বৃটেনের আদলে একটি হকার লাইসেন্সভিত্তিক ও নিয়ন্ত্রিত ফুটপাত হকার ব্যবসা ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে। যার আওতায়—
১। নির্দিষ্ট স্থান, সময় ও লাইসেন্সের ভিত্তিতে হকার ব্যবসার অনুমতি- নির্ধারিত ও উপযুক্ত কিছু এলাকায় নির্দিষ্ট শর্তে ফুটপাতের সীমিত অংশে ব্যবসা করার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। তবে কোনো অবস্থাতেই ফুটপাতের অবৈধ বা স্থায়ী দখলকে বৈধতা দেওয়া হবে না।
২। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে লাইসেন্স, স্থান ও মাসিক ভাড়া নির্ধারণ- ফুটপাতে হকার ব্যবসার জন্য সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা আইন দ্বারা ক্ষমতাপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ হকার লাইসেন্স প্রদান করবে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রতিটি অনুমোদিত ব্যবসার জন্য নির্দিষ্ট স্থান, আয়তন, ব্যবসার ধরন ও সময়সীমা নির্ধারণ করে শর্তসাপেক্ষে লাইসেন্স প্রদান করবে। লাইসেন্সধারীকে নির্ধারিত স্থান ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে মাসিক ভাড়া বা ব্যবহার ফি প্রদান করতে হবে।
মাসিক ভাড়া বা ব্যবহার ফি প্রদান অনলাইনের মাধ্যমে সরাসরি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রদান করতে হবে। লাইসেন্স ছাড়া কোনো ব্যক্তি ফুটপাতে ব্যবসা করতে পারবে না। করলে জরিমানা করা হবে।
৩। পথচারীর চলাচল সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার- কোনো এলাকায় ফুটপাত ব্যবসার অনুমতি দেওয়ার আগে নিশ্চিত করতে হবে যে পথচারীদের স্বাভাবিক ও নিরাপদ চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত ও অবাধ পথ সবসময় খোলা থাকবে।
যে এলাকায় ব্যবসা স্থাপনের ফলে পথচারীদের চলাচলের প্রয়োজনীয় জায়গা বন্ধ বা গুরুতরভাবে সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, সেখানে কোনো লাইসেন্স প্রদান করা যাবে না।
৪। নির্দিষ্ট এলাকা, আয়তন ও সময় নির্ধারণ- কোন কোন সড়ক, ফুটপাত বা এলাকায় ব্যবসা করা যাবে এবং কোন কোন এলাকায় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে—সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তা পূর্বনির্ধারিতভাবে ঘোষণা করবে।
প্রতিটি অনুমোদিত স্থানের জন্য সর্বোচ্চ কতটুকু জায়গা ব্যবহার করা যাবে, কোন ধরনের ব্যবসা করা যাবে এবং কোন সময় পর্যন্ত ব্যবসা পরিচালনা করা যাবে, তাও নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।
৫। QR Code-ভিত্তিক ডিজিটাল লাইসেন্স- প্রত্যেক হকার লাইসেন্সধারীকে একটি QR Code-সম্বলিত ডিজিটাল/ফিজিক্যাল হকার লাইসেন্স কার্ড প্রদান করা যেতে পারে।
QR Code স্ক্যান করলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর নাম, লাইসেন্স নম্বর, ব্যবসার ধরন, অনুমোদিত স্থান, অনুমোদিত আয়তন, মাসিক ভাড়া/ব্যবহার ফি, অনুমোদিত সময়সীমা এবং লাইসেন্সের অন্যান্য শর্ত তাৎক্ষণিকভাবে দেখা যাবে।
এতে সাধারণ জনগণ ও enforcement কর্তৃপক্ষ উভয়েই সহজে যাচাই করতে পারবে কোনো ব্যবসা বৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না।
৬। নিয়মিত তদারকি ও অভিযান- লাইসেন্সবিহীন ব্যবসা এবং লাইসেন্সের শর্ত লঙ্ঘন প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং আইনানুগভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে নিয়মিত পরিদর্শন ও অভিযান পরিচালনা করা যেতে পারে।
৭। কঠোর জরিমানা ও লাইসেন্স বাতিল- হকার লাইসেন্স ছাড়া ফুটপাতে ব্যবসা করা অথবা অনুমোদিত আয়তন, স্থান, সময় কিংবা অন্যান্য শর্ত লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ২০,০০০ টাকা থেকে ১,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা আরোপের বিধান রাখা যেতে পারে।
গুরুতর বা পুনরাবৃত্ত লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল এবং অবৈধ স্থাপনা বা পণ্য অপসারণের ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে।
৮। ফুটপাতের মূল চরিত্র অক্ষুণ্ণ রাখা- এই হকার ব্যবস্থার উদ্দেশ্য ফুটপাতকে ব্যবসায়িক স্থানে পরিণত করা নয়। ফুটপাতের প্রধান ব্যবহার থাকবে জনসাধারণের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল।
ব্যবসার অনুমতি হবে কেবল নির্দিষ্ট, সীমিত, অস্থায়ী এবং প্রত্যাহারযোগ্য commercial use হিসেবে। কোনো লাইসেন্সের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট স্থান বা ফুটপাতের ওপর কোনো মালিকানা, স্থায়ী দখল বা অন্য কোনো স্থায়ী অধিকার সৃষ্টি হবে না।