নিজেস্ব পতিবেদক । ঢাকা ইনফো।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন রাজধানীর উত্তরায় মো. ফজলুল করিম (২৮) নামের এক পোশাককর্মী নিহত হন। এ ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম, সাবেক ডিবিপ্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ এবং অনলাইন নিউজপোর্টাল ঢাকা ইনফো২৪ ডটকমের বিশেষ প্রতিনিধি শাহরিয়ার রিজবি প্রমুখ।
বুধবার (২১ আগস্ট) উত্তরা পূর্ব থানায় এ মামলা দায়ের করা হয়। উত্তরা পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, নিহতের বড় ভাই আনোয়ার হোসেন আয়নাল বাদী হয়ে এজাহার দায়ের করেছেন। মামলায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্ররোচনায় হত্যার অভিযোগে ৩০২/১১৪/১০৯ ধারায় মামলা করা হয়েছে।
মামলায় আরও আসামি করা হয়েছে সাবেক সংসদ সদস্য খসরু, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক ডিআইজি খালিদ হাওলাদারসহ জামালপুর জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের।
এজাহারে বলা হয়েছে, বাদীর ছোট ভাই মো. ফজলুল করিম (২৮) টঙ্গী এলাকার বেস্ট শার্টস লিমিটেডে স্যাম্পল ম্যান পদে কর্মরত ছিলেন। গত ৫ আগস্ট তার প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে আন্দোলনে যোগ দেন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, উত্তরা পূর্ব থানাধীন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পূর্ব পাশে জসিম উদ্দিন মোড়ে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথের সামনে আন্দোলন চলাকালে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আসামিদের নির্দেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, সন্ত্রাসী ও অজ্ঞাতপরিচয়ের লোকজন দলবদ্ধ হয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে শটগান, পিস্তল, রিভলভারসহ বিভিন্ন অস্ত্র দিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর অতর্কিত গুলি চালায়।
এ সময় ফজলুল করিমসহ অনেকেই গুলিবিদ্ধ হন। ফজলুল করিমের বুকের ডান পাশের নিচের অংশে গুলি লাগে এবং তিনি তাৎক্ষণিকভাবে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে উদ্ধার করে কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত ৯টা ১৯ মিনিটে হাসপাতালে ভর্তি করার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।