
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথিত ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটামকে কেন্দ্র করে। এ পরিস্থিতিতে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
মার্কিন এই আলটিমেটামের জবাবে ইরান জানিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র-সম্পর্কিত জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা চালানোর মতো পদক্ষেপ তারা বিবেচনা করতে পারে। একই সঙ্গে তেহরান বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে যেসব জাহাজ শত্রুপক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়, তারা ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করলে নিরাপদে চলাচল করতে পারবে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত হাতিয়ার। কারণ বিশ্বের একটি বড় অংশের জ্বালানি সরবরাহ এই পথ দিয়েই হয়। ফলে এ প্রণালিতে চাপ সৃষ্টি করা মানে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলা।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র বা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর হামলা চালায়, তাহলে তা বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। এতে শুধু ইরান নয়, পুরো অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও অভ্যন্তরীণ চাপের মধ্যেও দীর্ঘ সময় ধরে টিকে থাকতে সক্ষম হয়েছে ইরান। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্ষোভ দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনায় বহু হতাহতের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বিক্ষোভ-সংক্রান্ত মামলায় কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, ইরানের নেতৃত্ব মার্কিন হুমকিকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেই দেখছে। তাদের ধারণা, উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি হলে এসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে সংযত থাকার আহ্বান জানাতে পারে।
এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, সংকট নিরসনে বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। বিশেষ করে ওমান কূটনৈতিক মধ্যস্থতায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলোর অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাদের অর্থনীতি মূলত জ্বালানি রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল। পাশাপাশি পর্যটন ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ভাবমূর্তিও তাদের জন্য বড় বিষয়। ফলে এই সংকটে তাদের পদক্ষেপ ভবিষ্যতের পরিস্থিতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
