বিশেষ প্রতিবেদন: হেফাজতের সহিংসতা ও বিএনপির ‘কৌশলী’ সমর্থন—নেপথ্যের সমীকরণ
২০২১ সালের ২৬শে মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে হেফাজতে ইসলামের ডাকা কর সংবাদপত্রে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন ও বিএনপি নেতাদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিএনপি
সহিংসতাকে ‘শান্তিপূর্ণ’ আখ্যা ও বিক্ষোভের ডাক গত ২৭শে মার্চ ২০২১, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বিবৃতিতে ২৬শে মার্চ বায়তুল মোকারম তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ ও সরকারি দলের সন্ত্রাসীরা মিছিলে নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে। এর প্রতিবাদে ২৯শে মার্চ মহানগরগুলোতে এবং ৩০শে মার্চ জেলা সদরে বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা বিশ্লেষকদের মতে, হেফাজতের তান্ডবকে ‘শান্তিপূর্ণ’ দাবি করে বিএনপি মূলত সেই সহিংসতাকেই এক ধরণের
হেফাজতের হরতাল ও বিএনপির সংহতি ২৮শে মার্চ হেফাজত হরতাল ডাকলে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা সরাসরি তাদের পাশে দাঁড়ান। বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “হেফাজতের হরতাল ডাকার অধিকার আছে। আমরা বিক্ষোভ কর্মসূচি দিয়ে এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানাচ্ছি।” একই সুরে দলের আরেক নেতা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, “সরকার রক্ত ঝরিয়েছে বলেই বিএনপি কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছে। হেফাজত হরতাল দিয়েছে, আমরা বিক্ষোভ করে প্রতিবাদ জানাবো।”
টুকুর এই বক্তব্যে এটি স্পষ্ট হয় যে, হেফাজতের হরতালে বিএনপির পূর্ণ সমর্থন ছিল এবং বিক্ষোভের আড়ালে
সরকারের ওপর দায় চাপানোর কৌশল ৩০শে মার্চ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পুনরায় দাবি করেন যে, সরকারই উসকানি দিয়ে এই পরিস্থিতির তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “বায়তুল মোকাররমে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ কর্মীরা দুদিক থেকে আক্রমণ করে বহু লোককে হতাহত করেছে। একই ঘটনা ঘটেছে হাটহাজারীতে।” হেফাজতের তান্ডবকে জাস্টিফাই করতে বিএনপি বারবার জনগণকে বোঝানোর চেষ্টা করেছে যে হেফাজতের কর্মসূ
গ্রেফতার ও ‘ক্র্যাকডাউন’ ইস্যু এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে যখন সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা শুরু হয়, বিএনপি সেটিকে ‘ ১৫ই এপ্রিল বিবিসি বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মির্জা ফখরুল বলেন, “লকডাউনের সুযোগ নিয়ে সরকার আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করছে।” আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ম মেনে অভিযান চালালেও বিএনপি সেটিকে আলেমদের ওপর নির্যাতন হিসেবে তুলে ধরেন
মামুনুল হকের মুক্তি ও আইনি সহায়তা গত ১৯শে এপ্রিল ২০২১, মির্জা ফখরুল সরাসরি মামুনুল হকসহ গ্রেফতারকৃত সকল হেফাজত নেতার মুক্তি ও মামলা এমনকি বিএনপির দলীয় আইনজীবীরা মামুনুল হকের পক্ষে আদালতে আইনি লড়াই শুরু করেন।
রাজনৈতিক সচেতন মহলের প্রশ্ন—ধর্মের লেবাসে যারা সরকারি অফিস, আদালত এবং সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি পু বিএনপি মহাসচিব যেভাবে হেফাজতের প্রতিটি কর্মকাণ্ডের সাফাই গেয়েছেন এবং আইনি সহায়তা দিয়েছেন
