বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ‘ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় এসেছে’—এমন মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রত্যাখ্যান জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মন্তব্যটি করেছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির শফিকুর রহমান।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যৌথ সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল এ প্রতিক্রিয়া জানান।
জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, দেশকে আবার ভিন্নভাবে স্বৈরাচারের দিকে নেওয়ার কোনো প্রচেষ্টা আছে কি না, তা নিয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। অতীত ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দেশবাসী সচেতনভাবে তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ভবিষ্যতে রাজনৈতিকভাবে তাদের পুরোপুরি নির্মূল করার জন্য কাজ করতে হবে।
জামায়াত আমিরের বক্তব্যকে বিভেদ ও ধোঁয়াশা তৈরির চেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের মতামত প্রতিফলিত হয়েছে, যা দেশ-বিদেশে স্বীকৃত।
তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ ১৮ বছরের ‘ফ্যাসিস্ট শাসন’-এর বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি ২১৩টি আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করেছে। দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক ও আন্তর্জাতিক মহল এ নির্বাচনকে প্রশংসা করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এ ধরনের নির্বাচনের বিষয়ে প্রশ্ন তোলা শুধু অনভিপ্রেতই নয়, বরং সুস্থ রাজনৈতিক চর্চার পরিপন্থী বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।
তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, একটি বিশেষ পক্ষ বিভ্রান্তি ছড়িয়ে তা নষ্ট করার চেষ্টা করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশকে আবার স্বৈরাচারের দিকে ঠেলে দিতে পারে কি না—সেটি দেশবাসীকে বিবেচনা করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এবং যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন এমপি প্রমুখ।
