ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটি এখন একটি উদীয়মান বৈশ্বিক শক্তিতে পরিণত হচ্ছে এবং নতুন আন্তর্জাতিক শক্তি ভারসাম্য তৈরি করছে।
লন্ডন থেকে প্রকাশিত বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত চাপ ও সামরিক লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের কেন্দ্রীয় পারমাণবিক স্থাপনা ইসফাহানে সামরিক অভিযান ব্যর্থ হওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায় এবং সম্ভাব্য সমঝোতার দিকে অগ্রসর হতে হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পারমাণবিক উপাদান দখল, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ভেঙে দেওয়া এবং আঞ্চলিক সহযোগী শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থতা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায়। এর ফলে যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে কূটনৈতিক সমঝোতার দিকে যাওয়ার চাপ তৈরি হয় বলে দাবি করা হয়।
বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের নতুন বাস্তবতায় ইরান ও তার মিত্র শক্তিগুলো এখন আঞ্চলিক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে। বিশেষ করে লেবাননের হিজবুল্লাহ, গাজার বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী, ইরাক ও ইয়েমেনভিত্তিক শক্তিগুলোকে একক কৌশলগত নেটওয়ার্ক হিসেবে তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এই শক্তিগুলোর সমন্বিত অবস্থান ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একটি দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে এবং আঞ্চলিক সংঘাতকে আন্তর্জাতিক মাত্রায় নিয়ে গেছে।
এতে আরও দাবি করা হয়, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর ভবিষ্যৎ অবস্থান নির্ধারণ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে—তারা হয় নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেবে, না হয় বিদ্যমান কাঠামো বজায় রাখবে।
বিশ্লেষণে বলা হয়, হরমুজ প্রণালীর মতো কৌশলগত জলপথে ইরানের প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং এটি যুদ্ধ পরিস্থিতি নির্ধারণেও প্রভাব ফেলেছে বলে দাবি করা হয়।
প্রতিবেদনে মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও গবেষকদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, চলমান পরিস্থিতিতে ইরান তার রাজনৈতিক কাঠামোর কারণে দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকার সক্ষমতা অর্জন করেছে, যা তাকে চাপের মধ্যেও স্থিতিশীল রেখেছে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, যুদ্ধ পরিস্থিতি ইরানকে দুর্বল না করে বরং শক্তিশালী করেছে—এমন মতামত কিছু আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকের। তাদের মতে, ইরান এখন বৈশ্বিক শক্তির নতুন কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার পাশাপাশি নতুন একটি শক্তি হিসেবে ইরানের নাম উঠে আসছে।
প্রতিবেদনের শেষ অংশে বলা হয়, এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোতে দীর্ঘমেয়াদি ও অনিশ্চিত পরিবর্তন ঘটাতে পারে এবং ইরান ইতোমধ্যেই তুলনামূলক কম ক্ষতির মধ্য দিয়ে বড় কৌশলগত লাভ অর্জন করেছে।
সূত্র- tehrantimes.
