ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। কলকাতার সাখাওয়াত মেমোরিয়ালের সামনে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়েছে।
সোমবার (৪ মে) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাখাওয়াতের সামনে তৃণমূলের কর্মীরা অবস্থান নিয়েছিলেন। এ সময় সেখানে সুব্রত বক্সিও উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। এর কিছু পরেই এজেসি বোস রোড ধরে বিজেপি সমর্থকেরা আসতে শুরু করেন। তারা পুলিশের সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়ান। এ সময় দলটির কর্মী-সমর্থকেরা চেয়ার ভাঙচুর করেন।
বিজেপির এক সমর্থক বলেন, ‘তৃণমূল আমাদের ওপর অনেক শোষণ করেছে। ২০২১ ও ২০২৪ সালে আমরা বাড়িছাড়া হয়েছি। গণনাকেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে তারা সমাবেশ করেছে। বাংলার মানুষের কোনো উন্নয়ন করেনি, শুধু লুটেছে। তাদের আর লুটপাট করতে দেওয়া হবে না।’
এবার পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে বিজেপি জোরালোভাবে লড়াই করেছে। এর পেছনে বড় কারণ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির নাম। দলটি তাকে নিজেদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মনে করে।
কলকাতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নামও তার নামে—এসপি মুখার্জি রোড। এই সড়কটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, যেমন কালীঘাট ও ভবানীপুরের সঙ্গে যুক্ত। এখানেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন ও নির্বাচনী এলাকা রয়েছে।
শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ আশুতোষ মুখার্জির ছেলে। তিনি আইনজীবী, শিক্ষাবিদ ও রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ১৯২৯ সালে তিনি রাজনীতিতে যোগ দেন। পরে হিন্দু মহাসভার সঙ্গে যুক্ত হন।
স্বাধীনতার পর জওহরলাল নেহরুর মন্ত্রিসভায় তিনি দায়িত্ব পালন করেন। তবে ১৯৫০ সালে তিনি মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের উদ্যোগ নেন। ১৯৫১ সালে তিনি ভারতীয় জনসংঘ প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তীতে বিজেপির ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিজেপি মনে করে, শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির আদর্শ থেকেই তাদের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু। তাই পশ্চিমবঙ্গে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে দলটি বারবার তার নাম উল্লেখ করেছে, বিশেষ করে ‘বহিরাগত’ তকমার জবাব দিতে।
২০১৬ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থান শুরু হয়। সে বছর দলটি মাত্র তিনটি আসন পেলেও পরবর্তীতে দ্রুত শক্তি বাড়ায়। ২০২১ সালে তারা ৭৭টি আসন পায়। আর এবারের নির্বাচনে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা পার করেছে।
সূত্র: আনন্দবাজা।