ঠাকুরগাঁও সদর পৌর শহরে ভাঙ্গাচোরা ও খানাখন্দে ভরা বিভিন্ন সড়কের ও পানি নিস্কাশনে ড্রেনের উন্নয়নে সম্প্রতি সড়কের ও ড্রেনের সংস্কার/নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে এবং আর এসব কাজ সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, এসব কাজ সম্পন্ন করতে সরকারি বিধি অনুযায়ী দরপত্র ক্রয়ের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োজিত হলেও অধিকাংশ প্রকৃত ঠিকাদার তাদের লভ্যাংশ নিয়ে সাব ঠিকাদারের কাছে সড়ক ও ড্রেনের সংস্কার/নির্মাণের কাজগুলো বিক্রি করে দিয়েছেন। ফলে কাজগুলো সম্পন্ন করতে লাভ্যাংশ ঠিক রাখতে সাব ঠিকাদার বিভিন্ন কৌশল করে এসব কাজ সম্পন্ন করতে অতিব ধীর গতিতে এগিয়ে নিচ্ছেন। এর মধ্যে কিছু কিছু সড়ক ও ড্রেনের কাজ সম্পন্ন হলেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার অনেক কাজ খুবই ধীর গতিতে কাজ করছেন। এরফলে যানবাহন, পথচারী ও এলাকাবাসীদের চলাচলে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। বিশেষ করে বৃষ্টি বাদলের পর সংস্কারকৃত ভাঙ্গাচোরা সড়কে জমে থাকা ইটভাঙ্গা ও কাদা পানিতে পথচারী ও এলাকাবাসী চলাচল করতে গিয়ে চরম ভোগান্তির কবলে পড়ছেন। অনেকে ঐসব রাস্তায় মোটরবাইক নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে উল্টে পড়ে নাকাল অবস্থায় পড়ছেন। এর মধ্যে শহরে ব্যাংক সাহেবের বাসা থেকে শিশুপার্ক হয়ে কালিবাড়ি মোড় পর্যন্ত সড়কটি সংস্কারের কাজটি আট মাস আগে শুরু হলেও এখনও চলাচলের উপযোগী হয়নি। এদিকে শহরের প্রাণকেন্দ্র চৌরাস্তায় যখন যানজটের সৃষ্টি হয় তখন শত শত লোকজন/পথচারী জেলা বিএনপি কার্যালয় এলাকা থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যায়ের সামনে পর্যন্ত সরুগলি রাস্তা দিয়ে স্বাচ্ছন্দে চলাচলের চেষ্টা করেন। অথচ এই সড়কটিরও সংস্কার কাজ শুরু করার পর সড়কের উপড় ভাঙ্গা ইট স্তুপ করে ফেলে রেখে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে রেখেছেন।
ফলে এইসব কাজ দ্রুত না করার ফলে চরম ভোগান্তির কারণে জনমনে ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে। অথচ এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কারো যেন কোনো মাথা ব্যাথা নেই, কারো যেনো কিছু বলার বা করার নেই, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার যখন খুশি বা ইচ্ছে হবে তখন তার মর্জি অনুযায়ী কাজগুলো সম্পন্ন করবেন, সংস্কারকৃত ভাঙ্গাচোরা সড়কে জমে থাকা কাদা পানিতে পথচারী বা এলাকাবাসীর চলাচলে হাজার রকমের ভোগান্তিতে কারো যেনো কিছুই এসে যায়না। এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ২/১জন ঠিকাদারের সাথে কথা বলার চেষ্টা করা হলে নাম প্রকাশ করার শর্তে জানান, যে যা বলেন অথবা পত্র পত্রিকায় লেখেন তাতে কোনো লাভ হবে না । কারণ ঠিকাদার আর্থিক ক্ষতি করে কোনো কাজ সম্পন্ন করবে না। এব্যাপারে পৌরসভার প্রকৌশলীর সাথে কথা বলার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে ভুক্তভোগী লোকজন ঈদের আগে কাজগুলো সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোড় দাবি জানিয়েছেন।