বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় জাম পাড়তে গিয়ে গাছ থেকে পড়ে নাজমুল হাসান (১৭) নামের এক দাখিল পরীক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আজ রোববার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের জামনগর এলাকার প্রধান সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নাজমুল জামনগর মধ্যপাড়া গ্রামের মানসিক প্রতিবন্ধী ইদ্রিস আলীর ছেলে। সে চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে মূল সড়কের পাশে থাকা একটি জাম গাছে জাম পাড়তে ওঠে নাজমুল। গাছ থেকে জাম পাড়ার একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত ডাল ফসকে সে নিচে থাকা পাকা রাস্তার ওপর পড়ে যায়। শক্ত পিচঢালা রাস্তায় মাথায় সজোরে আঘাত লাগায় ঘটনাস্থলেই তার প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ শুরু হয়।
এ সময় রাস্তার পাশে থাকা পথচারী ও প্রতিবেশীরা তাকে রক্তাক্ত ও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত শেরপুর শহরের করতোয়া ক্লিনিকে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নাজমুলকে মৃত ঘোষণা করেন। কর্তব্যরত চিকিৎসকদের ধারণা, মাথায় গুরুতর আঘাত এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই হাসপাতালে আনার পূর্বেই তার মৃত্যু হয়েছে।
নাজমুলের এই অকাল ও আকস্মিক মৃত্যুতে তার পরিবারে এক গভীর অন্ধকার নেমে এসেছে। এলাকাবাসী জানান, নাজমুলের বাবা ইদ্রিস আলী একজন মানসিক প্রতিবন্ধী। তিনি নিজে চলাফেরা বা কোনো কাজকর্ম করতে পারেন না। কিশোর বয়সেই নাজমুল পড়াশোনার পাশাপাশি কঠোর পরিশ্রম করে সংসারের হাল ধরেছিল। তার উপার্জনেই চলতো প্রতিবন্ধী বাবা ও মায়ের ভরণপোষণসহ সংসারের যাবতীয় খরচ। কান্নাজড়িত কণ্ঠে এক প্রতিবেশী বলেন, “ছেলেটা খুব পরিশ্রমী আর ভদ্র ছিল। অভাবের সংসারের মধ্যেও সে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিল। আজ জাম পাড়তে গিয়ে যে এমন সর্বনাশ হয়ে যাবে, তা আমরা ভাবতেও পারছি না। এই পরিবারের আয়-রোজগার করার মতো আর কেউ রইল না। একদম নিঃস্ব হয়ে গেল পরিবারটি।”
এদিকে নাজমুলের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে জামনগর মধ্যপাড়া গ্রামসহ পুরো ভবানীপুর ইউনিয়নে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। এ বিষয়ে স্থানীয় বিএনপি ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। একমাত্র সন্তান ও সংসারের মূল উপার্জনের সম্বলকে হারিয়ে নাজমুলের মা-বাবা এখন প্রায় পাগলপ্রায়।”
কুশল/সাএ