পঞ্চগড়ে সম্পত্তির লোভে মুন্সিগঞ্জ থেকে এসে শাশুড়িকে অপহরণের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে এক বৌমার বিরুদ্ধে। এতে বর্তমানে শাশুড়ির খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
অভিযোগ অনুযায়ী, শ্বশুরবাড়ি থেকে স্মার্টফোন চুরি করেছে অপহরণে সহযোগিতাকারী মাইক্রোবাস চালক। তবে কথিত অপহরণকারী বৌমা বর্তমানে তার দেবরের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অপহৃত বৃদ্ধা জমিলাকে ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, অন্যথায় অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অপহৃত শাশুড়ি হলেন পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাষা ইউনিয়নের উত্তর মাটিয়াপাড়া গ্রামের মৃত হাফেজ আলীর স্ত্রী মোছা. জমিলা খাতুন ওরফে খুঞ্জনমালা। অভিযুক্ত বৌমা হলেন মৃত আক্কাস আলীর স্ত্রী জুলিয়া বেগম। ঘটনাটি ঘটে গত ৩০ মে শনিবার বিকেলে টুনিহাট-চাকলা সড়কের কেকুপাড়া এলাকায়।
সরেজমিনে হাড়িভাষা ইউনিয়নের উত্তর মাটিয়াপাড়া গ্রামে অপহৃত খুঞ্জনমালার বড় ছেলে হারুন আলীর বাড়িতে আত্মীয়স্বজনদের জটলা দেখা যায়। হারুন আলী জানান, তারা গতকাল থেকে মায়ের জন্য উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও আর্তনাদ নিয়ে দিন পার করছেন। তার মোবাইল ফোনে একের পর এক কল আসছে তার ভাই-বোনসহ আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে, যারা অপহৃত খুঞ্জনমালার খোঁজ করছেন।
এ সময় হারুন আলী ও বাড়িতে আসা স্বজনরা জানান, হারুন আলীর বড় ভাই আক্কাস আলী ছোটবেলা থেকেই মামার বাড়ি মুন্সিগঞ্জ যান এবং সেখানেই শৈশব-কৈশোর কাটিয়ে একপর্যায়ে ক্লিনিক ব্যবসা করে কোটি টাকার মালিক হন। আক্কাস আলী মুন্সিগঞ্জে থাকার সুবাদে মা জমিলা খাতুনকে মুন্সিগঞ্জে নিয়ে যান। সেখানেই ছেলের সাথে থাকতেন জমিলা খাতুন ওরফে খুঞ্জনমালা। গত আট মাস আগে আক্কাস আলীর রহস্যজনক মৃত্যু হয় মুন্সিগঞ্জে। ছেলের মৃত্যুর এক মাস পর পঞ্চগড়ে আসেন জমিলা খাতুন। তবে হারুন আলীর দাবি, তার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। সেখানে আক্কাসের বিরাট অঙ্কের সম্পত্তির মধ্যে তার মায়ের অংশ রয়েছে। সেই অংশ এককভাবে ভোগ করার জন্যই জুলিয়া বেগম ও তার মেয়ে রাজিদা বেগম মিলে তার মা খুঞ্জনমালাকে অপহরণ করেছেন।
হারুন আলী জানান, গতকাল তাদের ইউনিয়নবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে দাওয়াত খাওয়ানোর কথা বলে তার মাকে জুলিয়া বেগম মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে যান। পরে অনেক সময় মা বাড়িতে না আসায় মনিরের বাড়িতে গিয়ে খোঁজ করে দেখেন মা নেই। পরে চাকলায় বোনের বাসায় খোঁজ নিতে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে জুলিয়া বেগমের মাইক্রোবাসে তার মাকে দেখতে পান। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে মাইক্রোবাসটিকে পথরোধ করলে জুলিয়া বেগম তার মাকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে মেয়ে রাজিদা বেগমের সাথে মাইক্রোবাসটিকে ছেড়ে দেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত তার মায়ের কোনো সন্ধান পাননি। পুলিশে খবর দেওয়ার পর পুলিশ এসে চেয়ারম্যানসহ আশ্বস্ত করে যে, রবিবার সকাল দশটার মধ্যে ভাবি জুলিয়া বেগম মাকে ফেরত দেবেন। তবে রবিবার এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মা ফিরে আসেননি, এমনকি মায়ের কোনো খোঁজও পাওয়া যাচ্ছে না।
হারুন আলী জানান, তিনি দিশেহারা হয়ে গেছেন মায়ের জন্য, বিভিন্ন চিন্তা আসছে মায়ের না জানি কি হয়। কারণ তার ভাই আক্কাস আলীর সম্পর্ক খারাপ হওয়ার পর ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। ভাই আক্কাসের রেখে যাওয়া সম্পত্তির জন্য ভাবী জুলিয়া বেগম তার অসৎ উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারেন।
এদিকে, অভিযুক্ত জুলিয়া বেগম হারুন আলীর ছোট ভাই সামাদ আলীর বাড়িতে অবস্থান করছেন। সাংবাদিকরা জুলিয়া বেগমের সাথে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে রাজি হননি। এ সময় হারুন আলীর বিমাতা ভাই শুকুর আলী জুলিয়া বেগমের সাথে সাক্ষাৎ করতে সাংবাদিকদের বাধা দেন।
পঞ্চগড় সদর থানার ওসি আশরাফুল ইসলাম জানান, খুঞ্জনমালা নিখোঁজের বিষয়ে পুলিশ অবগত। তবে সেখানকার ইউপি চেয়ারম্যানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা আশ্বস্ত করেছেন যে, বৌমা জুলিয়া বেগম খুঞ্জনমালাকে ফিরিয়ে দেবেন। ফেরত দেওয়া না হলে থানায় অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুশল/সাএ