আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন-বিধি সংশোধন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত খসড়া নিয়ে একাধিকবার বৈঠক করেছে ইসির আইন-বিধি সংশোধন কমিটি। তবে এ নির্বাচনকে সামনে রেখে চলতি মাসের মধ্যেই আইন-বিধির সকল কাজ শেষ করতে চায় সাংবিধানিক এ সংস্থাটি।
ইসি কর্মকর্তারা বলেন, সংসদ নির্বাচনের আদলেই সকল আইন-বিধি সংশোধনের কাজ চলমান রয়েছে। যেখানে পোস্টা রাখা হচ্ছে না। ইভিএম বাদ দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে নির্দলীয় নির্বাচন বিধায় স্বতন্ত্রদের জন্য যে বিধান রয়েছে ১ শতাং ভোটারের স্বাক্ষরের সেটি বাদ দিয়ে জামানতের পরিমান বৃদ্ধি করা হচ্ছে। আচরণ বিধিমালায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। যেখানে সকল স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য একটি মাত্র আচরণ বিধিমালা থাকবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন-বিধি সংশোধনের কাজ যথা শীঘ্রই শেষ করে, জুন মাসের মধ্যে খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদনের জন্য কমিশনে পেশ করতে পারব। এ সময়ের মধ্যে অংশজনদের মতামত গ্রহণের জন্য ওয়েব সাইটে দিয়ে দিতে পারব। জুলাই মাঝামাঝি গিয়ে আমরা আইন-বিধির গেজেট প্রকাশ করতে পারব। জুনের ভিতের কমিশনের দিকের যে কাজ তা আমরা শেষ করা চেষ্টা করব।
জানা যায়, আইন সংশোধন করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ব্যাপক পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। এদিকে ইসির নির্বাচন পরিচালান শাখার তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে মোট ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছর ৩ হাজার ৭৫৫টি এবং আগামী বছর আরও ৩৪৯টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপযোগী হবে। এছাড়া ৩৩০টি পৌরসভা, ৪৯৫টি উপজেলা, ১২টি সিটি করপোরেশন ও ৬১টি জেলা পরিষদ বর্তমানে নির্বাচন উপযোগী অবস্থায় রয়েছে। সরকার নতুন করে বগুড়াকে সিটি করপোরেশন এবং পাঁচটি নতুন উপজেলা অনুমোদন দিয়েছে। ফলে দেশে সিটি করপোরেশনের সংখ্যা হবে ১৩টি এবং উপজেলার সংখ্যা দাঁড়াবে ৫০০।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আয়োজন অনেকাংশে সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়া জেলা পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা ও সিটি করপোরেশনগুলো প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভেঙে দেওয়া স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে ধাপে ধাপে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, বাজেটে নির্বাচন সংক্রান্ত বরাদ্দ অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর জুলাই–আগস্টের দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচন এ বছরের শেষ নাগাদ অনুষ্ঠিত হতে পারে বলেও তিনি জানিয়েছেন।