গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন অজ্ঞাত পরিচয়ের দুই ব্যক্তি। তাদের পরিচয় উদ্ঘাটনে পুলিশ ও সিআইডি নানা চেষ্টা চালালেও এখন পর্যন্ত কোনো সূত্র মেলেনি। এমনকি সিআইডির বায়োমেট্রিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষাতেও শনাক্ত করা যায়নি তাদের পরিচয়, যা রহস্যকে আরও ঘনীভূত করেছে।
বিডি২৪লাইভকে আজ দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন রংপুর থেকে আসা তিন সদস্যের সিআইডি দলের এসআই দীপেন্দ্রনাথ।
এর আগে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই দুই ব্যক্তির আঙুলের ছাপসহ প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করে সিআইডি। পরে সেগুলো জাতীয় ডাটাবেজের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হলেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে নমুনাগুলো আরও যাচাইয়ের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পুলিশ ও সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, সাধারণত বায়োমেট্রিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষায় ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যেই একজন ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়। কিন্তু এই দুই ব্যক্তির ক্ষেত্রে কোনো তথ্য না পাওয়ায় বিষয়টি ব্যতিক্রমী ও রহস্যজনক হয়ে উঠেছে।
রংপুর সিআইডির এসআই দীপেন্দ্রনাথ বিডি২৪লাইভ.কম’কে বলেন, “বায়োমেট্রিক পরীক্ষায় এখন পর্যন্ত তাদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট কোনো জাতীয় তথ্যভান্ডারের সঙ্গে মিলেনি। আমরা পরিচয় শনাক্তে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।”
অন্যদিকে, চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী দুই ব্যক্তির শারীরিক অবস্থারও কোনো উন্নতি হয়নি। তারা এখনও সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আসিফ রহমান বিডি২৪লাইভ.কম’কে বলেন, “তাদের শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে। এখনও তারা শঙ্কামুক্ত নন। আমরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দিচ্ছি। প্রয়োজন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে।”
জানা গেছে, গত রোববার সকাল ১০টার দিকে বোনারপাড়া রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে আনুমানিক ৪০ বছর বয়সী ওই দুই ব্যক্তিকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে বোনারপাড়া রেলওয়ে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
তবে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। এ সময় উন্নত চিকিৎসা ও স্থানান্তর নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা দেখা দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে নানা প্রক্রিয়া শেষে গতকাল ভোরে রেলওয়ে পুলিশ তাদের গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।
এদিকে পরিচয়হীন দুই ব্যক্তির জীবন-মৃত্যুর লড়াই এবং বায়োমেট্রিক পরীক্ষাতেও পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।
কুশল/সাএ