গভীর শ্রদ্ধা আর যথাযথ মর্যাদায় হাওরবেষ্টিত জেলা সুনামগঞ্জে উদযাপিত হয়েছে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস।
আজ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) প্রত্যুষে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের সূচনা হয়। এরপর জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
ভোর ৫টা ৫৯ মিনিটে জেলা প্রশাসক কার্যালয় সংলগ্ন ‘শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে’ পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানানো হয়। রাষ্ট্রের পক্ষে প্রথম শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া। এরপর একে একে শ্রদ্ধা জানান পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা জেরিন, সিভিল সার্জন ডা. জসিম উদ্দিন এবং সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাহবুবুর রহমান।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।এরপর পর্যায়ক্রমে শ্রদ্ধা নিবেদন করে জেলা পরিষদ, আনসার ও ভিডিপি, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। এছাড়াও জেলা শিক্ষা অফিস, বিএডিসি, পানি উন্নয়ন বোর্ড, খাদ্য বিভাগ, জেলা কারাগার, সমাজসেবা কার্যালয়, নির্বাচন অফিস, পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় এবং আবগারি ও ভ্যাট অফিস পুষ্পস্তবক অর্পণ করে।
দিবসটি উপলক্ষে শ্রদ্ধা জানায় জেলা মৎস্য অফিস, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এছাড়া জেলা তথ্য অফিস, আইনজীবী সমিতি, সড়ক বিভাগ, এলজিইডি, গণপূর্ত অধিদপ্তরসহ জেলা বিএনপি ও মহিলা দলসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
সকাল ৮টায় জেলা স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া। এসময় সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়। পতাকা উত্তোলন শেষে পুলিশ, আনসার-ভিডিপি এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কুচকাওয়াজ ও আকর্ষণীয় শারীরিক কসরত (ডিসপ্লে) প্রদর্শিত হয়। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন এবং অভিবাদন গ্রহণ করেন।
দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরে বেলা ১১টায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সম্মানে এক বিশেষ সংবর্ধনা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা স্বাধীনতার চেতনাকে সমুন্নত রেখে দেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও মোড়গুলোতে আলোকসজ্জা এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে জাতীয় পতাকায় সজ্জিত করে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে। দিনটি উপলক্ষে সরকারি হাসপাতাল, জেলখানা ও এতিমখানায় উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
