ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ঘেঁষে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার দিনারপুর এলাকায় গড়ে ওঠা জনতার বাজার ও মেলার বাজার পশুর হাট এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য মারাত্মক ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মহাসড়কের দুই পাশে অবৈধভাবে বসা এই দুটি হাটের কারণে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট, বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি, এমনকি ইতোমধ্যে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গজনাইপুর ইউনিয়নের দিনারপুর পরগনায় পূর্বের মেলার বাজার বিলুপ্ত করে মহাসড়কের সংলগ্ন স্থানে জনতার বাজার পশুর হাট গড়ে ওঠে। জেলার অন্যতম বৃহৎ এই পশুর হাটে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার পশু কেনাবেচা হয়। প্রথমদিকে সরকারিভাবে ইজারা দেওয়া হলেও গত ৫-৭ বছর ধরে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি আদালতে রিট দায়ের করে ইজারা প্রক্রিয়া স্থগিত রেখে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে বাজার পরিচালনা করছেন। অভিযোগ রয়েছে, অবৈধভাবে পরিচালিত এই হাট থেকে প্রতি মাসে বিপুল অর্থ লেনদেন হলেও সরকার বঞ্চিত হচ্ছে রাজস্ব থেকে।
এদিকে চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজারটি অপসারণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। তৎকালীন জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, মহাসড়কে নিরাপদ ও স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত করতে এই পশুর হাটটি অপসারণ জরুরি। নির্দেশনায় ৩১ জানুয়ারির মধ্যে হাট সরিয়ে নেওয়ার কথা বলা হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। বরং সতর্কীকরণ সাইনবোর্ডও বাজার সংশ্লিষ্টরা অপসারণ করে দেয়।
উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, অনুমতি ছাড়া হাট পরিচালনা করা কিংবা মহাসড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। হাট-বাজার আইন ২০২৩ ও মহাসড়ক আইন ২০২১ অনুযায়ী এ ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে প্রশাসন হাট উচ্ছেদে গেলে স্থানীয় প্রতিরোধের মুখে পড়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।
বর্তমানে মহাসড়কের দুই পাশে দুটি পশুর হাট বসায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। রাস্তার পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকে পশুবাহী ট্রাক, পিকআপ, ভ্যান ও ক্রেতাদের যানবাহন। এতে দূরপাল্লার যান চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
অন্যদিকে হাটের পাশেই রয়েছে স্কুল-মাদ্রাসাসহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বাজারের কোলাহল ও শব্দদূষণের কারণে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে অবৈধভাবে এই দুটি হাট পরিচালিত হচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন দুর্ঘটনা ও যানজট বাড়ছে, অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব।
তাদের দাবি, জনস্বার্থে দ্রুত এই দুটি হাট বন্ধ করে মহাসড়ক থেকে দূরে নির্ধারিত স্থানে সরকারি অনুমোদন নিয়ে নতুনভাবে পশুর হাট স্থাপন করা হোক। এতে যেমন জনদুর্ভোগ কমবে, তেমনি নিশ্চিত হবে সড়ক নিরাপত্তা ও শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ।
