সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের বোরো ফসল অকাল বন্যার হাত থেকে রক্ষায় চলমান বাঁধ নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক ডঃ ইলিয়াস মিয়া।
আজ রবিবার (২৯ মার্চ) দিনব্যাপী তিনি জেলার তাহিরপুর, মধ্যনগর, জামালগঞ্জ এবং ধর্মপাশা উপজেলার বিভিন্ন হাওরে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) আওতাধীন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক প্রতিটি বাঁধের উচ্চতা, চওড়া এবং মাটির কাজের গুণগত মান পরীক্ষা করেন। তিনি প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশ্যে বলেন, “হাওরের কৃষকের ঘাম ঝরানো ফসল রক্ষায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা অবহেলা বরদাশত করা হবে না। নির্দিষ্ট ডিজাইন অনুযায়ী টেকসই বাঁধ নির্মাণ নিশ্চিত করতে হবে।”
বাঁধ পরিদর্শনকালে ডঃ ইলিয়াস মিয়া স্থানীয় উপকারভোগী কৃষক ও পিআইসি সদস্যদের সাথে সরাসরি কথা বলেন। কৃষকরা তাদের শঙ্কার কথা তুলে ধরলে জেলা প্রশাসক তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বাঁধের স্থায়িত্ব রক্ষায় স্থানীয়দেরও সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় জেলা প্রশাসকের সাথে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পওর-১) নির্বাহী প্রকৌশলী, তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত), সংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলোর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পিআইসি সদস্যবৃন্দ।
উল্লেখ্য যে, সুনামগঞ্জের বিশাল এলাকার মানুষের প্রধান জীবিকা বোরো ধান। প্রতি বছর আগাম পাহাড়ি ঢল ও বন্যার হাত থেকে এই ফসল বাঁচাতে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে কয়েকশ কিলোমিটার ডুবন্ত বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার করা হয়। এ বছর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্যে প্রশাসন ও পাউবো কঠোর তদারকি চালিয়ে যাচ্ছে।
উপস্থিত প্রকৌশলীবৃন্দ জানান, অধিকাংশ বাঁধের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে এবং অবশিষ্ট কাজগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য শ্রমিকদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
হাওরের বোরো ফসল রক্ষায় প্রশাসনের এই তৎপরতাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সাধারণ কৃষকরা। তবে তারা বৃষ্টির আগে বাঁধের ওপর ঘাস লাগানো ও ফাটল রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
