বগুড়া জেলার অধিকাংশ উপজেলায় জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) স্মার্ট কার্ড বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হলেও এখনো এই আধুনিক সেবা থেকে বঞ্চিত জেলার সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ শেরপুর উপজেলাসহ সোনাতলা ও নন্দীগ্রাম উপজেলার ভোটাররা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও স্মার্ট কার্ড না পাওয়ায় সরকারি-বেসরকারি নানা গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সেবা পেতে গিয়ে চরম বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন এসব উপজেলার সাধারণ মানুষ।
সরেজমিনে ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্মার্ট এনআইডি কার্ড না থাকার কারণে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ও মুক্তিযোদ্ধা ভাতার মতো সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর সুবিধা পেতে গিয়েও বাধার মুখে পড়ছেন অনেকে। এছাড়া পাসপোর্ট করতে গিয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট (আঙুলের ছাপ) না মেলা, আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে না পারা এবং ব্যাংকিং সেবা পেতেও প্রতিনিয়ত সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, হাতের ছাপ না মেলার কারণে তারা প্রতিনিয়ত উপজেলা নির্বাচন অফিসে ধরনা দিচ্ছেন। সেখানে গিয়ে নতুন করে আঙুলের ছাপ দিতে হচ্ছে, যা একটি দীর্ঘমেয়াদী ও ভোগান্তিকর প্রক্রিয়া। অথচ স্মার্ট কার্ড বিতরণের সময় প্রতিটি ভোটারের ১০ আঙুলের ছাপ এবং চোখের আইরিশ স্ক্যান নতুন করে নেওয়া হয়। ফলে স্মার্ট কার্ড হাতে পেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডাটাবেজ আপডেট হয়ে যেত এবং এসব সমস্যার সমাধান হতো। বিশেষ করে বগুড়ার শেরপুর উপজেলা বাণিজ্যিক ও ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও এখানকার বাসিন্দারা এখনো পুরনো ল্যামিনেটেড কার্ডই ব্যবহার করছেন।
সচেতন মহলের মতে, স্মার্ট কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হলে একদিকে যেমন ভোগান্তি কমবে, অন্যদিকে তথ্যের গরমিলও দূর হবে। জমেলা বিবি নামের একজন বলেন, “আমি বয়স্ক ভাতা পাই। মোবাইল ফোনের সিম কার্ড কেনার জন্য গিয়েছিলাম কিন্তু আঙুলের চাপ মিলছে না।” রফিকুল ইসলাম বলেন, “সবচেয়ে বড় জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের ক্ষেত্রে। পুরনো ডাটাবেজে থাকা আঙুলের ছাপের সঙ্গে বর্তমান ছাপ না মেলায় নিজ নামে সিম তুলতে পারছি না।” ফলে ডিজিটাল বা আধুনিক সেবা থেকে তারা এক প্রকার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন।
এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, “প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ নানা সমস্যা নিয়ে আমাদের অফিসে আসছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আঙুলের ছাপ না মেলা নিয়ে। স্মার্ট কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হলে এই ভোগান্তি আর থাকবে না। কারণ স্মার্ট কার্ড প্রদানের সময় ভোটারদের বায়োমেট্রিক তথ্য ও ছবি আপডেট করা হয়। আমরা আশা করছি দ্রুতই এই সমস্যার সমাধান হবে।”
শেরপুর, সোনাতলা ও নন্দীগ্রাম উপজেলার সাধারণ ভোটারদের দাবি, কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই তিন উপজেলায় স্মার্ট কার্ড বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করে তাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব করেন।
