খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) শিক্ষার্থী মৌমিতা হালদারের সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণ এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত তারা খুলনা জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেন।
জানা যায়, পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে ক্যাম্পাসে সমবেত হন। পরে তারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে নগরীর ডিসি অফিসের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবি জানান।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ঘটনার পর ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং অবিলম্বে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহবুবুর রহমান আকাশ বলেন, দুর্ঘটনার পর একটি প্রাইভেট কার রিকশাকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে আপু গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন সকালে তারা ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করতে খুলনা সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে যান। প্রথমে ফুটেজ দেওয়ার কথা বলা হলেও পরে জানানো হয় যে ফুটেজ ডিলিট হয়ে গেছে। ফলে আমরা নিশ্চিত হতে পারছি না এটি দুর্ঘটনা নাকি হত্যাকাণ্ড। প্রশাসনের কাছে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের শনাক্ত করার দাবি জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।”
শিক্ষার্থীদের অবরোধস্থলে উপস্থিত হয়ে খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিতান কুমার মন্ডল জানান, ঘটনার পর থেকেই প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ পুলিশ গ্রহণ করবে। তিনি আরও বলেন, প্রশাসন এখন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে।
পুরো নগরীকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার দাবির বিষয়ে তিনি জানান, আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পুরো শহরকে সিসিটিভির আওতায় আনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ঘেরাও কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করেন। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তি, লাইসেন্সবিহীন ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ, এবং নগরীতে কঠোর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।
সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীরা খুলনা বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেন। এতে তারা দ্রুত দোষীদের খুঁজে বের করে বিচার নিশ্চিতের দাবি জানান এবং আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের হাজির করার আল্টিমেটাম দিয়ে ঘেরাও কর্মসূচি সমাপ্ত করেন।
উল্লেখ্য, গত সোমবার সন্ধ্যায় খুলনা নগরীর জেলা পরিষদ ভবনের সামনে একটি প্রাইভেট কারের ধাক্কায় খুবির শিক্ষার্থী মৌমিতা হালদার নিহত হন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ডিসিপ্লিনের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন।
