গুমের ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার প্রক্রিয়া চালুর পথ উন্মুক্ত করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনালস (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল ২০২৬’ জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে।
সংসদ অধিবেশনে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলটি উত্থাপন করেন। পাস হওয়া এই সংশোধনীর মাধ্যমে ‘গুম’ (Enforced Disappearance)-কে আনুষ্ঠানিকভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।
বিলটির উদ্দেশ্য ও প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে আইনমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে গুমের বিচারকে একটি সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর আওতায় আনা হলো। “যারা বলছেন আমরা গুমের বিচার করতে চাই না, তাদের বলব—এই আইনটি ভালোভাবে পড়ুন। আগে গুম মানবতাবিরোধী অপরাধের তালিকায় ছিল না, এখন আমরা তা অন্তর্ভুক্ত করেছি,”—বলেন তিনি।
তিনি আরও দাবি করেন, গুমের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এই সংশোধনী সেই সদিচ্ছারই প্রতিফলন।
বিলটি পাসের পর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “নির্দিষ্ট সময় এলে আমরা এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।”
এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্বকারী স্পিকার মেজর হাফিজ উদ্দিন আইনমন্ত্রীকে সংসদীয় বিধি মেনে বক্তব্য সীমিত রাখার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, সংসদের বাইরে কে কী বলছে তা এখানে আলোচনার বিষয় নয়।
উল্লেখ্য, ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালস আইনের সংশোধনের অংশ হিসেবে এই বিলটি আনা হয়। সংশোধনীটি পাস হওয়ায় গুমের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার পাওয়ার আইনি ভিত্তি আরও শক্তিশালী হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
