রাজধানীর শ্যামলিতে মানবিক চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত সিকেডি ইউরোলজি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলামের কাছে গিয়ে যুবদলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদার দাবিতে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক নেতা মঈন উদ্দিদের বিরুদ্ধে।
এদিকে বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পর শুক্রবার (১০ এপ্রিল) দিবাগত রাত দেড়টায় ‘সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি)’ হাসপাতালে গিয়ে অধ্যাপক কামরুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করেন যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নসহ একটি প্রতিনিধি দল।
এ সময় তারা ঘটনায় জড়িত মো. মঈন উদ্দিন মঈনসহ চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। বিএনপি মিডিয়া সেল থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
চাঁদাবাজির ঘটনায় শুরু থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানালেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানান ডা. কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, প্রথম দিকে ভয় দেখাতো। এখানকার সিকিউরিটির লোকজনও তাকে ভয় পেত। অনেক লোকজন সঙ্গে নিয়ে যুবদল কর্মী পরিচয় দেয়। কিছু বলাও যায় না। তার নামে বেশ কয়েকটা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
ডা. কামরুল ইসলাম বলেন, আমাদের এখানে প্রায় ৪০০ স্টাফ কাজ করে। খুব কম বেতনে আয়া, সিকিউরিটি, ক্লিনাররা কাজ করে, থাকারও ব্যবস্থা করেছি। রোগীদের কোনো খাবারের বিলও ধরা হয়না। একটা ক্রয় কমিটিতে যারা আছে তারা খুব হিসাব করেই চলে।
যুবদলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, মইন উদ্দিন নামের কেউ যুবদলের নেই। অর্থাৎ সংগঠনের নাম ব্যবহার করে এমন করছে। ৫ আগস্টের পর থেকে এমন অনেক অভিযোগ পেয়েছি, যেখানে কমপক্ষে ৮০ শতাংশ ঘটনা সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে করেছে কিন্তু তারা আমাদের সংগঠনের কেউ না।
অন্যদিকে, যুবদলের সভাপতি বলেন, যুবদলের কেউ এখানে চাঁদাবাজি করতে আসেনি, আসবেও না। দায়িত্ব আমরা নিলাম। এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি, তারা ইতিমধ্যে মাঠে নেমেছে। আশা করি দ্রুততম সময়ের মধ্যে দোষী ব্যক্তি গ্রেফতার হবে।
প্রসঙ্গত, গতকাল শুক্রবার রাতে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাজধানীর শ্যামলীর একটি হাসপাতালে দলবল নিয়ে হাজির স্থানীয় এক নেতা। যুবদলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদার দাবিতে হুমকি দিচ্ছেন তিনি।
জানা গেছে, শুধু শুক্রবারই নয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে হাসপাতাল থেকে চাঁদা-দাবি করে আসছেন স্থানীয় এই কথিত নেতা। চাপে ফেলতে ডা. কামরুল ইসলামকে আওয়ামী লীগ ট্যাগ দিয়ে হাসপাতালের সামনে মব তৈরিরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
