কোমর ব্যথা এবং কিডনির ব্যথার মধ্যে পার্থক্য বোঝা ভীষণ জরুরি। কারণ কিডনির ব্যথা সাধারণত পাঁজরের নিচে, মেরুদণ্ডের দুই পাশে গভীরভাবে অনুভূত হয় এবং নড়াচড়ায় বাড়ে না, সঙ্গে জ্বর, বমি কিংবা প্রস্রাবে জ্বালা থাকতে পারে। আর সাধারণত কোমর ব্যথা নিচে হয় এবং ওঠাবসা বা হাঁটাচলায় বাড়ে ও বিশ্রামে কমে। তীব্র না হলে কোমরের যন্ত্রণাকে আমল দেন না অনেকেই। তা ছাড়া অনেকেই ভেবে নেন বসার দোষে নয়তো কোনো চোট থেকে এমন ব্যথা হচ্ছে।
বিশেষত দীর্ঘ সময় টানা চেয়ারে বসে কাজের ফলে পিঠে ও কোমরে ব্যথা হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু কোমরের যে ব্যথাকে অবহেলা করছেন, তা আসলে পেশির ব্যথা বুঝবেন কীভাবে? এ বিষয়ে হায়দরাবাদের কিডনির চিকিৎসক রতন ঝা বলেন, কোমরের ব্যথাকে পেশির ব্যথা ভেবে ভুল করে বসেন অনেকেই। আসলে তা হতেও পারে কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত। কিন্তু কিডনি মানবদেহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যঙ্গ। রক্ত থেকে দূষিত পদার্থ ছেঁকে বার করে দেওয়ার কাজটি করে কিডনি। সেই কাজ থমকে গেলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
কিডনির সমস্যার লক্ষণগুলো অনেক সময়েই নিঃশব্দ হয়। কিছু উপসর্গ ধরাই যায় না। তারই মধ্যে একটি হচ্ছে কিডনির সমস্যা। অনেক সময়েই কোনো ব্যথা পেশির আর কোনটি কিডনির সমস্যার ইঙ্গিতবাহী তা চট করে ধরা যায় না। অভিজ্ঞ চিকিৎসকরাও কখনো কখনো বিভ্রান্ত হয়ে যান।
কারণ দুটি ব্যথার ধরন অনেকটাই এক। ক্রমাগত একই জায়গায় ব্যথা, খুব বেশি নয়; অথচ হালকা অস্বস্তি, পেশি শক্ত হয়ে যাওয়া, কখনো কখনো স্থানটি খানিক গরম হয়ে যাওয়া পেশির ব্যথার ইঙ্গিতবাহী। সময়ে চিকিৎসা না হলে সাধারণ পেশির ব্যথাও খুব বেশি ভোগাতে পারে। তবে কিডনির ব্যথার ধরনের কিছুটা তফাত থাকে।
কিডনির সমস্যায় অনেক সময়েই কোনো উপসর্গ থাকে না। জ্বর বা প্রস্রাবে জ্বালাও থাকে না। আচমকাই কোমরে বা কোমর-পেটের মাঝের অংশে ব্যথা হতে পারে। তা হতে পারে কিডনিতে পাথর হওয়ার লক্ষণ। চিকিৎসকরা বলছেন, কিডনি এক দিনে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, বরং দৈনন্দিন জীবনযাপনের ভুলেই একটু একটু করে কিডনির ক্ষতি হয়। সে কারণে কিডনি ভালো রাখা জরুরি। তার জন্য পর্যাপ্ত পানি খাওয়া প্রাধান শর্ত। একই সঙ্গে কমানো দরকার লবণ বা সোডিয়ামের মাত্রা। টাটকা শাক, সবজি ও ফলও কিডনি ভালো রাখতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে মদপান, ধূমপানে কিডনির ক্ষতি হয়। এড়ানো দরকার প্রক্রিয়াজাত খাবার।
এ বিষয়ে চিকিৎসক হিমা দীপ্তি আলা জানিয়েছেন, কিডনির ব্যথা যেমন তীব্র হতে পারে, তেমনই হালকাও হতে পারে। কিডনির সমস্যা থাকলে যন্ত্রণা ক্রমাগত হতে থাকবে। কমলেও ফিরে আসবে। কোমরের নিম্নাংশের দিকে যন্ত্রণা হতে পারে, আবার সেই যন্ত্রণা সরতে পারে কোমর থেকে পেটের দিকে একপাশ বরাবর।
কোমরের নিম্নাংশের যন্ত্রণা দীর্ঘক্ষণ টানা বসে কাজের জন্য হতেই পারে। তবে আরও কয়েকটি উপসর্গের দিকে খেয়াল রাখতে বলেছেন চিকিৎসকরা। খেয়াল রাখতে হবে ক্রমাগত ক্লান্ত লাগছে কিনা। লক্ষ্য রাখতে হবে প্রস্রাবে। প্রস্রাবের সময় যদি হালকা অস্বস্তিও হয় সচেতন হওয়া জরুরি।
প্রস্রাবের রঙে বদল এলে, ঈষৎ লালচে দেখালে, ফেনা হলে বা অন্য রকম গন্ধ বার হলে সতর্ক হতে হবে। তা ছাড়া প্রস্রাবের সময় জ্বালা, ব্যথা হলেও সতর্কতা দরকার। কারণ প্রসাবের রঙে বদল হতেই পারে। এবং একই সঙ্গে কোমরে যন্ত্রণা হলে একেবারেই দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে শরণাপন্ন যাওয়া দরকার। প্রস্রাব পরীক্ষা এবং রক্তপরীক্ষার পাশাপাশি আলট্রাসনোগ্রাফি বা আরও কিছু পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিতে পারেন চিকিৎসক। ফলের ওপরেই নির্ভর করবে চিকিৎসা।
