গাজীপুরের কালীগঞ্জে মাদক নির্মূলে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে ২৩২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ চারজন সক্রিয় মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সাথে মাদকাসক্ত অবস্থায় এলাকায় জনসাধারণের শান্তি বিনষ্ট করার দায়ে অপর দুই মাদকসেবীকে ১৫ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কালীগঞ্জ থানা পুলিশের পৃথক দল উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নাগরী ইউনিয়নের মধ্য পানজোড়া গ্রাম থেকে আঃ জলিলের পুত্র মিলন মিয়া এবং ধনুন গ্রাম থেকে মৃত সরত আলীর পুত্র শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া উপজেলার সেনপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মৃত আহাম্মদ আলীর কন্যা আকলিমা বেগম এবং একই এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে নাহিদ হাসান আদনানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আদনান বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার কাদিরাবাদ গৌরিপুর গ্রামের ইব্রাহিম সিকদারের পুত্র। তাদের তল্লাশি করে মোট ২৩২ পিস নিষিদ্ধ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
অন্যদিকে, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় এলাকায় অশোভন আচরণ ও জনসাধারণের শান্তি বিঘ্নিত করার অপরাধে বক্তারপুর ইউনিয়নের বেরুয়া গ্রাম থেকে মো. ইমাম ও মো. মোমিন নামের দুই যুবককে আটক করা হয়। আটক ইমাম ওই গ্রামের রুহুল আমিনের পুত্র এবং মোমিন মৃত মোতালেবের পুত্র। পরে তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাদের প্রত্যেককে ১৫ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন এ বিষয়ে বলেন, “মাদকের ভয়াল গ্রাস থেকে সমাজ ও তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। মাদকের সাথে জড়িত কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। আমাদের নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এই চার কারবারিকে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং দুই মাদকসেবীকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। কালীগঞ্জকে মাদকমুক্ত করতে এই অভিযান আগামীতেও আরও কঠোরভাবে অব্যাহত থাকবে।”
ওসি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত চার মাদক কারবারির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের পর তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মাদকের উৎস ও মূল হোতাদের খুঁজে বের করতে পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন। পুলিশের এমন তৎপরতায় এলাকায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
কুশল/সাএ
