বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের এই কঠিন সময়ে গাজীপুরের কালীগঞ্জে এক শ্রেণির অসাধু চক্র জ্বালানি তেল নিয়ে ন্যাক্কারজনক কারসাজিতে মেতে উঠেছে। সরকারি মূল্যে পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করে তা দ্বিগুণ ও তিনগুণ মুনাফায় খোলা বাজারে বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে করে সাধারণ মানুষ ও প্রকৃত ভোক্তাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি তেলের বর্তমান সংকটের কারণে কালীগঞ্জের হাতেগোনা কয়েকটি পাম্পে দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি, বিশেষ করে একদল বাইকার ভোর রাত ৩টা থেকেই পাম্পগুলোর সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা অপেক্ষার পর তারা সরকার নির্ধারিত ১১৬ টাকা লিটার দরে অকটেন সংগ্রহ করছেন। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, এই তেলের একটি বড় অংশ নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার না করে তারা খোলা বাজারে ১৮০ টাকা থেকে শুরু করে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত চড়া দামে বিক্রি করছেন।
সরেজমিনে উপজেলার তুমলিয়া এলাকার তায়েবা ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায় শত শত বাইকারের দীর্ঘ সারি। সেখানে তেল নিতে আসা সোহাগ মোড়ল নামের এক বাইকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমি ভোর ৪টার সময় এখানে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি। আমার আগে কমপক্ষে আরও ১০০ জন দাঁড়িয়ে আছে। এদের মধ্যে অনেকেই আছে যারা কেবল বিক্রির উদ্দেশ্যে ট্যাঙ্কি ভরে তেল নিচ্ছে। এরা এখান থেকে নিয়ে বাইরে গিয়ে ৩৫০ টাকা লিটার দরে তেল বিক্রি করবে। এভাবে চলতে থাকলে কৃত্রিম সংকট আরও তীব্র হবে। প্রশাসনের উচিত এখনই এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।”
তেলের চড়া দামের শিকার হওয়া মো. আবুল হোসেন জানান তার কষ্টের কথা। তিনি বলেন, “জরুরি প্রয়োজনে গত পরশু একজন বাইকারের কাছ থেকে ৩০০ টাকা লিটার দরে ৫ লিটার অকটেন কিনেছি। জানি এটা বেআইনি এবং অনেক বেশি দাম, কিন্তু পাম্পে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার সময় নেই বলে আমি নিরুপায় হয়েই এই তেল কিনেছি।”
এই অরাজক পরিস্থিতির বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এটিএম কামরুল ইসলাম কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।
তিনি বলেন, “বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আমরা নানাবিধ সীমাবদ্ধতার মাঝেও জনসাধারণের কষ্ট লাঘবে বিভিন্ন উদ্যোগ হাতে নিয়েছি। কিন্তু এই উদ্যোগগুলোকে পুঁজি করে কেউ যদি অসৎ উদ্দেশ্যে তেলের মজুদ বা কালোবাজারি করে, তবে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছি। পাম্প থেকে তেল নিয়ে যারা খোলা বাজারে চড়া দামে বিক্রি করছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া গেলে অবশ্যই দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ মনে করছেন, পাম্পগুলোতে তদারকি বাড়ানো এবং লাইনে দাঁড়ানো ব্যক্তিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করলে এই কালোবাজারি রোধ করা সম্ভব। অন্যথায়, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও তেলের কৃত্রিম সংকট আরও চরম আকার ধারণ করবে।
সালাউদ্দিন/সাএ
