আজ ঐতিহাসিক বড়াইবাড়ি দিবস। ১৮এপ্রিল ২০০১ সালে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকে বড়াইবাড়ি ছিটমহলের ঘুমন্ত মানুষের ওপর নিমর্ম ভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাই আজ যথাযথ পর্যাদায় দিবসটি পালন করা হলো।
২০০১সালের ওই ঘটনার পর থেকে বড়াইবাড়ি সীমান্তের মানুষ ১৮ এপ্রিল দিনটি বড়াইবাড়ি দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। বিজিবি জোয়ান ও সীমান্তবাসীরা নানা কর্মসূচি পালন করে থাকে। সকালে বড়াইবাড়ি শহীদদের স্মরণে স্মৃতি ফলকে ফুলের তোরা ও শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। ২৫ বছর উপলক্ষে রজতজয়ন্তী,শ্রদ্ধা নিবেদন,দোয়া ও আলোচনা সভা। উক্ত আলোচনা সভায়
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, আলহাজ্ব মো. সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, প্রশাসক জেলা পরিষদ কুড়িগ্রাম ও সদস্য সচিব,জেলা বিএনপি কুড়িগ্রাম। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, আহ্বায়ক,জেলা বিএনপি কুড়িগ্রাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক মো. হাসিবুর রহমান হাসিব, বিশিষ্ট সাংবাদিক, যুগ্ম আহ্বায়ক, জেলা বিএনপি কুড়িগ্রাম, অধ্যাপক মো. মোখলেছুর রহমান,আহ্বায়ক, রাজিবপুর উপজেলা বিএনপি, মো. আব্দুর রাজ্জাক চেয়ারম্যান,আহ্বায়ক,রৌমারী উপজেলা বিএনপি, মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান রঞ্জু,সদস্য সচিব, রৌমারী উপজেলা বিএনপি, সাবেক চেয়ারম্যান, রৌমারী উপজেলা পরিষদ মো. ইমান আলী ইমন সহ প্রমুখ।
উল্লেখ্য যে,সে সময়ের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ক্যাম্প ও বড়াইবাড়ি ছিটমহল দখলে নেয়ার বিএসএফের অপচেষ্টা প্রতিহত করে বিজিবি জোয়ান ও সীমান্তবাসিরা। উভয় পক্ষের সীমান্তরক্ষী বাহিনীদের মাঝে গুলিতে তিন বিজিবি জোয়ান ও ১৬ বিএসএফ সদস্য নিহত হন। গুলিবিদ্ধ হন ছয় বাংলাদেশি সাধারণ মানুষ। আর বিএসএফের মর্টার শেল ও আগুনে বড়াইবাড়ি ছিটমহল ধ্বংসস্থপে পরিণত হয়। ওই দিনের বিএসএফ-বিজিবির মাঝে প্রায় ৪২ ঘণ্টার সম্মুখ যুদ্ধে বড়াইবাড়ি ছিটমহলের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। বিজিবির সঙ্গে সীমান্তবাসী একযোগে প্রতিরোধের মুখে পিছু হঠতে বাধ্য হয় বিএসএফ। সম্মুখ যুদ্ধে বিজিবির সদস্য নায়েক সুবেদার ওয়াহিদ মিয়া, সিপাহী মাহফুজার রহমান ও সিপাহী আব্দুল কাদের শহীদ হন। শহীদ তিনজনের স্মরণে ক্যাম্পের সামনে একটি স্মৃতি ফলক নির্মাণ করা হয়েছে।
