কক্সবাজারের রামুর ঈদগড় ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রুস্তম আলী অপহরণের প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেয়েছেন। তবে তাকে উদ্ধারের দাবি ঘিরে রামু থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
তাদের অভিযোগ, মুক্তিপণের টাকায় ছাড়া পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ ‘উদ্ধার’ দেখিয়ে ছবি তুলেছে, কিন্তু প্রকৃত কোনো অভিযান চালায়নি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, অপহরণের পর রুস্তম আলী নিজেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। দর-কষাকষির একপর্যায়ে ১০ লাখ টাকায় সমঝোতা হয়। ওই টাকা জোগাড় করতে পরিবারের পক্ষ থেকে একটি ডাম্পার বিক্রি করা হয়। পরে নির্ধারিত স্থানে টাকা পৌঁছে দিলে বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত ৯টা ১০ মিনিটের দিকে রশিদনগর ইউনিয়নের পানিরছড়া পাহাড়ি এলাকায় তাকে ছেড়ে দেয় অপহরণকারীরা।
স্বজনদের দাবি, পাহাড় থেকে নেমে আসার পরপরই সেখানে উপস্থিত হয় রামু থানা পুলিশ। তবে অপহরণের সময় থেকে মুক্তি পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় পুলিশের কোনো সক্রিয় ভূমিকা ছিল না।
স্থানীয় বাসিন্দারাও একই অভিযোগ করেন। তাদের ভাষ্য, গভীর পাহাড়ি এলাকায় কোনো অভিযান চালানোর তথ্য তারা জানেন না। এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্ট্যাটাস দিয়েছেন নেটিজেনসহ স্থানীয়রা।
রুস্তম আলীর ছোট চাচা মৌলভী আব্দুল করিম বলেন, পরিবারের উদ্যোগেই মুক্তিপণের ব্যবস্থা করে তাকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
এর আগে বুধবার ভোর পৌনে ছয়টার দিকে ঈদগাঁও বাজার থেকে মোটরসাইকেলে ঈদগড়ের উদ্দেশে রওনা দেন রুস্তম আলী। পথে ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কের পানেরছড়া ঢালা এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন সশস্ত্র ব্যক্তি তার গতিরোধ করে তাকে জঙ্গলের দিকে নিয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ ঈদগাঁও-ঈদগড়-বাইশারী সড়কটি দীর্ঘদিন ধরেই অপহরণ ও ডাকাতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। সন্ধ্যার পর এই সড়কে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। জরুরি প্রয়োজনে চলাচলের ক্ষেত্রে অনেকেই পুলিশি নিরাপত্তা নিয়ে থাকেন।
গত সাড়ে তিন মাসে এই সড়ক থেকে অন্তত ১২ জনকে অপহরণ করা হয়েছে। তাদের অধিকাংশই মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেয়েছেন। সর্বশেষ গত ২৩ মার্চ একই সড়ক থেকে দুজন রাবার বাগানের শ্রমিককে অপহরণ করে কয়েক ঘণ্টা পর ছেড়ে দেওয়া হয়। গত এক দশকে এই এলাকায় ডাকাতদের গুলিতে পুলিশ সদস্যসহ অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন।
বারবার এমন ঘটনার পরও কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে না ওঠায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তাদের প্রশ্ন, অপহরণের মতো গুরুতর অপরাধে যদি পরিবারকেই মুক্তিপণের ব্যবস্থা করে ভুক্তভোগীকে ফিরিয়ে আনতে হয়, তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা কোথায়?
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভুঁইয়া গণমাধ্যমে বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।
কুশল/সাএ
